চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনা দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 

রবিবার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা চাইলেই সাধারণ নাগরিকদের মতো স্বাধীনভাবে দেশে ফিরতে পারবেন না। 

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে অবশ্যই বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও কূটনৈতিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে। তিনি যখনই দেশের মাটিতে পা রাখবেন, তখনই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং সরাসরি কারাগারে পাঠানো হবে।

ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী দেশে থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেকশন ২১ এর ৩ পরিষ্কার করেই বলছে, ৩০ দিনের পরে আর কোনো আপিল হবে না।

তবে সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ থাকবে কি না- এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়; তাহলে তো সংগত কারণেই যেহেতু তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ রয়েছে, তিনি প্রথমত জেলে যাবেন। জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সেই বিষয়ে নিষ্পত্তি হবে।

ভবিষ্যতে আইনি সুযোগ তৈরির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে, তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয়, তাই হবে।

বিষয়টি সম্পূর্ণ আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।

ট্রাইব্যুনালের চলমান মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান ১০টি মামলার তদন্ত কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই এই প্রতিবেদনগুলো আদালতে পেশ করা হবে।

অর্থাৎ, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আত্মসমর্পণ-উভয় ক্ষেত্রেই আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা রয়েছে এবং দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের শীর্ষ এই আইন কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত