নাটোরের সিংড়ায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে খালের কচুরিপানার নিচে প্রায় ১০ ঘণ্টা লুকিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি দুই আন্তজেলা গরু চোরের। স্থানীয়দের সতর্কতায় খাল ঘিরে রাখার পর অবশেষে তারা আত্মগোপন থেকে বের হতে বাধ্য হয়। পরে এলাকাবাসী তাদের পুলিশে সোপর্দ করে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বেতাকুড়-আতারামপুর এলাকার কুদরত আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪২) এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মইপুর গোপালপুর এলাকার মোস্তাকের ছেলে ফেরদৌস (২৬)।
পুলিশ জানায়, নওগাঁর রানীনগর থানায় দায়ের হওয়া একটি গরু চুরির মামলায় গ্রেপ্তার আসামি আত্রাই উপজেলার কাশিয়াড়ী এলাকার আসলাম দেওয়ানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর ৫টার দিকে সিংড়ার চৌগ্রাম এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়।
একপর্যায়ে আসলামের সহযোগী ৫-৬ সদস্যের একটি আন্তজেলা গরু চোর চক্র মিনি ট্রাকে সেখানে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় হাবিবুর রহমান ও ফেরদৌস রাস্তার পাশের কচুরিপানায় ভরা একটি খালে ঝাঁপ দিয়ে আত্মগোপন করে। অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে খালটি চারদিক থেকে ঘিরে রাখেন। দীর্ঘ প্রায় ১০ ঘণ্টা কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে থাকার পর দুই চোর বের হয়ে এলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ সময় কেউ তাদের মারধর না করে অসুস্থ হয়ে পড়া দুইজনকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক দুজনকে প্রশাসনের হেফাজতে নেন। পরে তাদের সিংড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, আটক দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা হবে। পাশাপাশি রানীনগর থানার গরু চুরির মামলায়ও তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল জানান, গরু চুরির মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।