মানুষের চোখ কেবল দেখার মাধ্যম নয়, প্রকৃতির অবিশ্বাস্য ও জটিল জৈবিক প্রকৌশল। এই ছোট অঙ্গটি প্রায় এক কোটি রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে এবং ৫৭৬ মেগাপিক্সেলের অবিশ্বাস্য রেজল্যুশনে ছবি তুলতে সক্ষম। এটি সাধারণত সেকেন্ডে ২৪ থেকে ৩০টি ফ্রেম নিখুঁতভাবে প্রক্রিয়া করতে পারে। চাখের ভাষা হৃদয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে। বিস্ময়, আনন্দ, দুঃখ বা ভয়ের সময় চোখের মণি প্রসারিত বা সংকুচিত হয়, যা অবচেতনভাবে মনের কথা বলে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের চোখ ও মস্তিষ্ক একসঙ্গে কাজ করে প্রায় ১০ মিলিয়ন ভিন্ন ভিন্ন রঙ শনাক্ত করতে সক্ষম। চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ অর্থাৎ কর্নিয়া, মানবদেহের একমাত্র টিস্যুগুলোর মধ্যে একটি যেখানে সরাসরি রক্তনালি নেই। এটি বাতাস ও চোখের অশ্রু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। রেটিনায় থাকা প্রায় ১২ কোটি ‘রড কোষ’ ও ৬০ লাখ ‘কোণ কোষ’ আলোর তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত মস্তিষ্কে পাঠায়। এর ফলে আমরা মুহূর্তের মধ্যে পরিবেশ বুঝতে পারি। চোখের রেটিনায় বাইরের জগতের ছবি উল্টোভাবে গঠিত হয়। পরে মস্তিষ্ক সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে, সোজা ও স্বাভাবিক দৃশ্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। যে কারণে চোখকে বলা হয় ‘মস্তিষ্কের জানালা’। মানবদৃষ্টির রহস্যময় জগৎ মনে করিয়ে দেয়, আমরা যে পৃথিবী দেখি, তা শুধু চোখের মাধ্যমে নয় বরং মস্তিষ্কের সৃজনশীল ব্যাখ্যার মাধ্যমে নির্মিত। মানব মস্তিষ্কের জানালা যখন আলোহীন, তখন সবই অন্ধকার। এই অপার বেদনা জানে, যারা দৃষ্টিহীন।
মানব মস্তিষ্কের জানালা
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ এএম
আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ এএম
মানব মস্তিষ্কের জানালা
×
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০