উপকূলে ১০ দিনে তিন টর্নেডো

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০২ এএম

কক্সবাজার সুগন্ধা সৈকতে হঠাৎ টর্নেডোর রেশ কাটতে না কাটতেই গত শনিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় আবার টর্নেডো ঝড় হয়। আর এতে গত ১০ দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তিন দফা টর্নেডো হলো। সাধারণত দেশে মার্চ থেকে মে মাসে টর্নেডো হলেও এবার হঠাৎ জুলাইয়ে কেন?

জানা যায়, গত ৯ জুলাই সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের আদর্শপাড়া বেড়িবাঁধ এলাকায় টর্নেডোর আঘাতে প্রায় ২৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে গত ১৭ জুলাই শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টায় কক্সবাজার সুগন্ধা বিচ এলাকায় টর্নেডো দেখা যায়। এতে বিচে থাকা ছাতা ও চেয়ারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত শনিবার দুপুরের পর পতেঙ্গা এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে টর্নেডোর দৃশ্য দেখা যায়। কক্সবাজারের টর্নেডোর বর্ণনা দিতে গিয়ে সেখানকার আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল হান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টর্নেডোটি দুর্বল ছিল। শক্তিশালী হলে উপকূলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হতো। তবে হঠাৎ এমন কু-লী আকারের ঝড়ে পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।’ একই অবস্থা দেখা যায়, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় সৃষ্ট কু-লাকৃতির ঝড়েও। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাতির শুঁড়ের মতো ঝড়টি ঘুরতে ঘুরতে একটি নৌকার পাশ দিয়ে অতিক্রম করে সাগরেই বিলীন হয়ে যায়।

জুলাইয়ে কেন টর্নেডো?

১০ দিনের ব্যবধানে তিন দফায় টর্নেডো দেখা গেল উপকূলীয় এলাকায়। উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসে কালবৈশাখীর সময় টর্নেডো হয়ে থাকে। অতীতের পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, সব টর্নেডো এই সময়ের মধ্যে হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ টর্নেডো হয়েছিল ২০১৩ সালের ২২ মার্চ বিকেল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর এলাকায়। এই টর্নেডোতে ১৫টি গ্রাম ল-ভ- হয়েছিল এবং মারা গিয়েছিল ৩১ জন ও আহত হয়েছিল প্রায় ৪০০ জন। এর আগে ২০০৪ সালের ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহে, ১৯৯৬ সালের ১৩ মে  বিকেল ৫টায় টাঙ্গাইল ও জামালপুরে, ১৯৮৯ সালের ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের দৌলতদিয়া-সাটুরিয়া এলাকায় টর্নেডো হয়েছিল। কিন্তু অন্যান্য বছরে যেখানে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে হয়েছে এবার জুলাইতে কেন? যদিও এবার ১২ মার্চ থেকে ২৯ মার্চের মধ্যে লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম এলাকায় টর্নেডো হয়েছে তারপরও জুলাইতে কেন?

এই প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ বলেন, বর্ষায় টর্নেডোর বিষয়টি নতুন নয়। আর টর্নেডো ছোট এলাকায় খুব কম সময়ের মধ্যে হয়ে থাকে বলে অনেকেই আমরা তা জানি না। তবে একটি শক্তিশালী টর্নেডোর কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।

উপকূলে কেন টর্নেডো?

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি টর্নেডো হয়ে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূলে। আর এরপরই হয়ে থাকে বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায়। টর্নেডো উপকূল বা স্থলভাগ যেকোনো এলাকায় হতে পারে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘সাধারণত কোনো স্থানে বায়ুশূন্য পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং বায়ুর চাপ কমে গেলে সেখানে টর্নেডোর সৃষ্টি হয়ে থাকে। আর এই বায়ুশূন্যতা অগভীর সমুদ্র উপকূল কিংবা হাওর এলাকায় বেশি হয়। সেসব এলাকায় উৎপত্তি হয়ে উপকূলীয় এলাকায় আঘাত করে।’

একই মন্তব্য করেন আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘উপকূল ও স্থলভাগের মধ্যবর্তী এলাকায় মূলত বেশিরভাগ টর্নেডোর সৃষ্টি হয়ে থাকে। আর টর্নেডোর পরিধি কয়েক মিটার থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার গতিতে প্রবাহিত এই টর্নেডো দেখতে হাতির শুঁড়ের মতো দেখা যায় এবং সর্পিলাকার গতিতে এগিয়ে চলে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত