জুলাই বিপ্লবোত্তর রাষ্ট্র পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সম্মেলন ২০২৬’-এর দ্বিতীয় ও শেষ দিনে শিক্ষা, নারী অধিকার, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষা বিষয়ে চারটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (CePAA)। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জুলাই বিপ্লবোত্তর রাষ্ট্র গঠন: আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’।
প্রথম অধিবেশনে অধ্যাপক ড. আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ সমন্বিত, দক্ষতাভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় নীতি-ধারাবাহিকতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
দ্বিতীয় অধিবেশনে অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান নারী অধিকার প্রশ্নে রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাবের সমালোচনা করে গবেষণাভিত্তিক, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তৃতীয় অধিবেশনে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার জাতীয় স্বার্থভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি গঠনের আহ্বান জানান। তিনি জলবায়ু কূটনীতি, ব্লু ইকোনমি, ডিজিটাল কূটনীতি, অভিবাসন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
শেষ অধিবেশনে মো. বুরহান উদ্দিন নোমান তরুণদের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, তরুণদের প্রধান প্রত্যাশা হলো সামাজিক সম্প্রীতি, দুর্নীতিমুক্ত শাসন, কর্মসংস্থান, জাতীয় মর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এসব লক্ষ্য অর্জনে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং নীতিনির্ধারণে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
চারটি অধিবেশনেই দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাবেক সচিব, কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে গবেষণাপত্রের ওপর আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিভিন্ন নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরেন।