দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশি

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইনসটাউনে একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও একজন। নিহতদের সবাই নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার গভীর রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দোকানের ভেতরে থাকা আবাসিক কক্ষে সাত বাংলাদেশি ঘুমিয়েছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অপর একজনকে উদ্ধার করে কুইনসটাউনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নিহতদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলিরটেক ইউনিয়নের কুকেরচর ও চর আলীরটেক এলাকা এবং বক্তাবলী ইউনিয়নের রামনগর এলাকায়। নিহতদের মধ্যে মো. ফয়সল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) ও মোহাম্মদ আপন (২৪)-এর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। তারা আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন মেম্বারের মালিকানাধীন একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। উদ্ধারকাজ শেষ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

অগ্নিকান্ডে নিহত পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন সদর উপজেলার ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, মেম্বার রওশন আলীসহ আরও অনেকে। স্থানীয় মেম্বার ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকের ভাই রওশন আলী জানান, কীভাবে আগুন লেগেছে তারা সেটি নিশ্চিত নন। ক্ষতিগ্রস্তরা সবাই তার আত্মীয়-স্বজন। কেউ ভাতিজা, কেউ ভাগ্নে, কেউ বড় ভাই। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। সরকারিভাবে যে সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানা যাবে।

অগ্নিকা-ে নিহত পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেনসদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়েজ উদ্দিন, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, মেম্বার রওশন আলীসহ আরও অনেকে। স্থানীয় মেম্বার ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকের ভাই রওশন আলী জানান, কীভাবে আগুন লেগেছে তারা সেটি নিশ্চিত নন। ক্ষতিগ্রস্তরা সবাই তার আত্মীয়-স্বজন। কেউ ভাতিজা, কেউ ভাগ্নে, কেউ বড় ভাই।

এর আগেও দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস শহরে একটি দোকানে আগুন লেগে চার বাংলাদেশি নিহত হন। এ ছাড়া ২০২৪ সালে কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারম্যারিটজবার্গে একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত