স্কুল প্রাঙ্গণে হাজার হাজার গাছের সারি। প্রবেশপথে এত গাছ দেখে মনে হয় স্কুল নয় যেন বনে প্রবেশ করছি। বনজ, ফলদ, ঔষধি ও শোভাবর্ধন গাছে ঘিরে আছে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ। প্রায় ১৫ হাজার গাছের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও শীতল ছায়ায় চলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। গল্পটি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুুটিবিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের। উপজেলার বটতলী সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে এই বিদ্যালয়ের অবস্থান। স্কুল প্রাঙ্গণে এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন স্কুলেরই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারই স্বীকৃতি হিসেবে মিলেছে বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৪। বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার বিভিন্ন জাতের গাছ রয়েছে এই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। প্রত্যেক বছর খালি জায়গায় বিভিন্ন জাতের গাছ লাগায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ১৯৬৮ সালে স্থানীয় মোস্তাফিজুর রহমান সওদাগরের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় পুটিবিলা ইউনিয়নের পাহাড়ি টিলার ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয় পুটিবিলা উচ্চবিদ্যালয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ বিদ্যালয়টি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটি। ২০১০ সাল থেকে বিদ্যালয়ের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর কাজে হাত দেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ১০ একর জমিতে প্রায় ১৫ হাজার গাছ লাগিয়ে প্রাকৃতিক এক মনোরম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বৈশি^ক উষ্ণতার কথা মাথায় রেখে আগামী প্রজন্মকে গাছ লাগানোয় অভ্যস্ত করতে লেখাপড়ার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি জানান, ২০১০ সালে এ বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী ১০-১২টি গাছ লাগিয়েছে। গাছ লাাগিয়েছেন শিক্ষকরাও। গাছগুলো এখন পাখিদের অভয়াশ্রম।’ প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘গাছের পরিচর্যার বিষয়টি বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীর ব্যবহারিক ক্লাস হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হয়। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মাইলফলক। এ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলও সন্তোষজনক।’
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, গাছ বাগানের বিভিন্ন অংশকে ভাগ করে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা গাছগুলোর আশপাশ পরিষ্কার রাখে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি দেয়। বর্তমানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১২ হাজার বনজ, ফলদ ২ হাজার, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ রয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী সুব্রত দাশ ও সোমা বড়ুয়া জানায়, পুটিবিলা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ শিক্ষার জন্য খুবই উপযোগী। তীব্র গরমের সময়েও তেমন গরম অনুভব হয় না। এ ছাড়াও স্কুলের পাশাপাশি আমরা বাড়িতেও গাছ লাগানোর চেষ্টা করি।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘পুটিবিলা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খালি জায়গায় শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার গাছ লাগিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অবশ্যই এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ‘পুটিবিলা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করে বিদ্যালয়ে শিক্ষাবান্ধব প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আমি এ উপজেলার প্রত্যেক স্কুলের খালি জায়গায় বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।’
