আল্লাহর স্মরণ হৃদয়কে সতেজ রাখে

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ এএম

কাজ করলে শরীর ক্লান্ত হয়। বিশ্রামে আবার শক্তি ফিরে আসে। কিন্তু হৃদয়ের ক্লান্তি দূর হয় কীভাবে? অস্থির মন কোথায় খুঁজে পায় শান্তি? উদ্বেগে ভারী হয়ে যাওয়া অন্তর কীভাবে আবার সতেজ হয়? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে পবিত্র কোরআন। আল্লাহর স্মরণই হৃদয়ের প্রকৃত প্রশান্তি। মুমিনের অন্তরের জীবনীশক্তি। আত্মার খাদ্য। যে হৃদয় আল্লাহকে স্মরণ করে, সে হৃদয় কখনো শূন্য থাকে না।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা ইমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের হৃদয় প্রশান্ত হয়, জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়গুলো প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রাদ ২৮)

এই আয়াত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, হৃদয়ের সত্যিকার প্রশান্তি সম্পদে নয়। ক্ষমতায় নয়। খ্যাতিতেও নয়। বরং আল্লাহর স্মরণেই মানুষের অন্তর শান্ত হয়।

আল্লাহর জিকির বা স্মরণ শুধু তাসবিহ হাতে কিছু শব্দ উচ্চারণের নাম নয়। নামাজ আদায় করা জিকির। কোরআন তেলাওয়াত জিকির। দোয়া করা জিকির। আল্লাহর আদেশ মেনে চলা জিকির। এমনকি প্রতিটি বৈধ কাজও যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে করা হয়, তবে সেটিও ইবাদত ও আল্লাহর স্মরণের অন্তর্ভুক্ত।

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতেন।’ (সহিহ মুসলিম) এটি আমাদের শেখায়, জিকিরের জন্য বিশেষ সময়ের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। চলার পথে। কাজের ফাঁকে। ঘুম থেকে ওঠে। ঘুমানোর আগে। ঘরে ও বাইরে। সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা যায়।

আজকের মানুষ নানা দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত। কর্মব্যস্ততা, প্রতিযোগিতা, অনিশ্চয়তা, পারিবারিক চাপ, অর্থনৈতিক সংকট, এসব কারণে অনেকের মন সবসময় ভারাক্রান্ত থাকে। মানুষ বাহ্যিক স্বাচ্ছন্দ্য পেলেও অন্তরে শান্তি খুঁজে পায় না। কারণ হৃদয়ের প্রয়োজন কেবল বস্তুগত নয়। তার প্রয়োজন আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবকে স্মরণ করে এবং যে ব্যক্তি স্মরণ করে না, তাদের উদাহরণ জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো।’ (সহিহ বুখারি)

জিকির শুধু মুখের শব্দে সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট নয়। তার প্রভাব আচরণে ফুটে উঠতে হবে। যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে, তার জীবনেও আল্লাহর পবিত্রতার প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। যে ব্যক্তি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে, তার অন্তরে কৃতজ্ঞতা থাকতে হবে। যে ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলে, তার কাছে আল্লাহর আদেশ সব কিছুর চেয়ে বড় হতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতকে অনেক সহজ ও ফজিলতপূর্ণ জিকির শিখিয়েছেন। যেমন ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’। এসব জিকির নিয়মিত পাঠ করলে বান্দার আমলের পাল্লা ভারী হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

লেখক : ইসলামি গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত