চট্টগ্রাম নগরীসহ সারা দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসন, আবাসিক ও শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত এবং এলপিজি ও অটোগ্যাসের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত। সোমবার (৩ আগস্ট) সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম নগরীসহ সারা দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র গ্যাসসংকট জনজীবনকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলেছে।
গ্যাসের স্বল্পচাপ ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে নগরীর অসংখ্য পরিবারে স্বাভাবিক রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার সময় গ্যাস না থাকায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
তাঁরা বলেন, চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং প্রধান সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে তীব্র গ্যাসসংকট বিরাজ করছে। আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতও এ সংকটের নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হচ্ছে। ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বিবৃতিতে জামায়াতে নেতারা বলেন, দেশের জনগণ নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তীব্র গ্যাসসংকটের কারণে অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ এ পরিস্থিতিতে সরকার এলপিজি ও অটোগ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। এমন জনবিরোধী ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তাঁরা আরও বলেন, গ্যাসসংকটের কারণে সাধারণ মানুষ একদিকে স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্না করতে পারছে না, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে অটোগ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নগর নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে দিশেহারা, তখন গ্যাসসংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে এলপিজি ও অটোগ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের দুর্ভোগ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে অবিলম্বে এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার করতে হবে।
সাড়ে ৮ মাস বন্ধের পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু