প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম 

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৭ এএম

আগামী ৯ আগস্ট (রবিবার) চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত তিন উপজেলা হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এ প্রথম চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। তার সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী ৯ আগস্ট রবিবার সকালে বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, পুনর্বাসন ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে যাবেন ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে। সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। 

ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে (হাটহাজারী মাদরাসা) যাবেন। সেখানে হেফাজতের সাবেক আমির মরহুম শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত শেষে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ বাংলোতে দুপুরের খাবার গ্রহণ করবেন। এরপর হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সব শেষে প্রধানমন্ত্রী দলের চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করবেন নগরের রেডিসন ব্লুতে। তারপর চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার। 

সফর বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত চট্টগ্রামবাসী।

সফরসূচি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট সকালের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী উপজেলায় বাহারছড়া যাবেন। প্রথমে হেলিকপ্টারযোগে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত নামবেন। সেখান থেকে গাড়িযোগে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ মাঠে পৌঁছাবেন। সেখানে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পরিদর্শনের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ ও ঘর হস্তান্তর করবেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে হেলিপ্যাড তৈরি সম্পন্ন হয়েছে৷ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করছে।’ বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহল আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য উপযুক্ত স্থানে হেলিপ্যাডও প্রস্তুত করা হয়েছে।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফরকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন জানায়, প্রধানমন্ত্রী অবতরণের জন্য উপজেলার পাইন্দং পেলাগাজী দিঘী মোড়সংলগ্ন সিএনবি মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে হেলিপ্যাড নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। 

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মো. ইব্রাহিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী হেলিপ্যাডে অবতরণের পর সড়কপথে বাবুনগরে গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশলবিনিময় করবেন।

জানা গেছে,  ১৯৯০-এ স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে মার্চে বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরের মাসেই ২৯ এপ্রিল শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয় চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের পুরো উপকূলীয় অঞ্চল। বিধ্বস্ত চট্টগ্রামে ১৯৯১ সালের ৮ মে বেগম খালেদা জিয়া ছুটে আসেন চট্টগ্রামবাসীর পাশে। চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ ছুটে যান বেগম খালেদা জিয়া। কারারুদ্ধ এবং অসুস্থ হওয়ার আগে বেগম জিয়া বৃহত্তর চট্টগ্রামের আরেকটি আন্তর্জাতিক সংকট রোহিঙ্গা প্রবেশের পর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম আসেন। সেটিই ছিল বেগম জিয়ার শেষ চট্টগ্রাম সফর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত