আমার বন্ধু মিনি!

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৬ এএম

বিড়াল পোষার শখ আমার ছোট্টবেলা থেকেই। আমাদের বাড়িতে একটি পোষা বিড়াল আছে। বিড়ালটি আমার বন্ধু! বিড়াল আমার প্রিয় বন্ধু হওয়ার গল্প শোনাব আজ ‘পায়রা’ বন্ধুদের। তখন আমি প্রথম শ্রেণিতে পড়ি। একদিন স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফিরছি মায়ের সঙ্গে। হঠাৎ রাস্তার ডাস্টবিনের পাশে একটি তুলতুলে সাদা-কালো লোমে ভরা বিড়ালছানা মিউ মিউ শব্দ করে ডাকছে। দেখতে খুবই সুন্দর! কিন্তু এই প্রাণীটির পায়ে জখম। রক্ত ঝরছে। তাই হাঁটতে পারছে না। আশপাশের মানুষ দেখছে, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। তা যাই হোক,  বিড়ালছানাটির প্রতি আমার আর মায়ের খুব মায়া লাগল। তাই বাড়িতে নিয়ে আসি। আমরা নাম দিয়েছি ‘মিনি’। বাবা ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ দেয়। অল্প সময়েই যতœ, মায়া আর ভালোবাসা দিয়ে মিনিকে সুস্থ করে তুলি। দেখতে দেখতে আমার আদুরে মিনি বড় হয়ে যায়। গায়ে যখন আদর করে দিই ও তখন চোখ বন্ধ করে গরগর শব্দ করে। সে সারা দিন খেলাধুলা করতে ভালোবাসে। খাট, সোফা ও আলমারির পেছনে লুকোচুরি খেলে!

মিনি আমাদের ঘরের চারপাশেই ঘুরে বেড়ায়। ওকে গোসল করানো ভারী মুশকিল! সপ্তাহে দুদিন শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করিয়ে দিই। মিনির সবচেয়ে প্রিয় খাবার দুধ, ভাত, মাছ, মাছের কাঁটা, মাংস। যখন পড়ার টেবিলে পড়তে বসি তখন পায়ের কাছে এসে বসে থাকে। বিড়ালটির নাম ধরে ডাকলে খুব মিষ্টি করে মিউ মিউ করে ডাকে। মিনি আরামপ্রিয়, নরম বিছানায় ঘুমাতে পছন্দ তার। মজার স্বভাব হলো- খাঁচা থেকে চুপি চুপি এসে আমার সঙ্গে খাটে এসে ঘুমিয়ে পড়ে। সত্যি বলতে কি, ঘুমিয়ে আদর করতে আমারও খুব ভালো লাগে। ছুটির দিনে মিনিকে নিয়ে পার্কে ঘুরে বেড়াতে যাই। মজার মজার আচরণ আমাদের মুখে হাসি ফোটায়। এভাবেই প্রিয় বন্ধু হয়ে যায় প্রিয় পোষা বিড়ালটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত