সাড়ে ছয় বছরে বাইক দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জনের মৃত্যু

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম

দেশে সাড়ে ছয় বছরে (২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত) ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরবাইক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১৫ হাজার ৭১২ জন। আহত হয়েছে ১৪ হাজার ১৪৩ জন। নিহতদের ৫৮ শতাংশ ১৩ থেকে ৩৫ বছর বয়সী। মোটরবাইক দুর্ঘটনার বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গতকাল শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংস্থার তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর বড় অংশের চালক কিশোর-যুবক। তাদের মধ্যে বেপরোয়া চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। তারা গতির মধ্যে রোমাঞ্চ অনুভব করে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা-ভঙ্গি কিশোর-যুবকদের অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালাতে উৎসাহিত করছে বলে জানায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংস্থাটি বলছে, চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য না হওয়া এবং যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ৩ হাজার ৫৪৮টি দুর্ঘটনায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ৪৯৭টি। ভারী যানবাহনের ধাক্কায় দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬ হাজার ৩১৪টি। আর অন্যান্য কারণে ৭০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি, আঞ্চলিক সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি, গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি এবং শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী, ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ দুর্ঘটনায় দায়ী বাসের চালক, ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনায় দায়ী পণ্যবাহী যানবাহন (ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ইত্যাদি)। এ ছাড়া প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ দায়ী ২ দশমিক ৭২ শতাংশ ঘটনায়, থ্রি-হুইলার দায়ী ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ ঘটনায়, বাইসাইকেল ও রিকশা দায়ী দশমিক ৭৬ শতাংশ ঘটনায় এবং ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য পথচারী দায়ী।

সংস্থাটি আরও জানায়, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের বেশিরভাগই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। তারা বেপরোয়া যানবাহন চালিয়ে মোটরসাইকেলে চাপা-ধাক্কা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন। এ ছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করা। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমায়।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সংস্থাটি যেসব কারণ উল্লেখ করেছে সেগুলো হলো কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার ও নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজট।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরেছে। সেগুলো হলো মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার করা, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা, বিটিআরসির মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপত্তামূলক প্রচার চালানো, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষাভঙ্গি পরিবর্তন করা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা এবং সহজ-সাশ্রয়ী যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালু করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত