ঝাড়খন্ডে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, আটক ১০

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪২ এএম

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দিল্লির রাজপথে হওয়া অন্দোলনের পর, এবার ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ড চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলমান আন্দোলনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান ক্রনিকল জানিয়েছে, গত শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং ৮ থেকে ১০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) ঝাড়খন্ড শাখা এই মিছিলের আয়োজন করে। রাঁচির ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার কথা ছিল।

ঝাড়খ-ের ১৪তম লোকসেবা কমিশনের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। গত ২৫ জুলাই রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ঝাড়খ- লোকসেবা কমিশন ও ঝাড়খ- কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন তারা। এরপর টানা দুই সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা বাতিল, অনিয়মের স্বাধীন তদন্ত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি, পুরো ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা অথবা ঝাড়খ-ের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে করতে হবে। পাশাপাশি ঝাড়খন্ড লোকসেবা কমিশন ও ঝাড়খ- কর্মী নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

রাঁচির এই আন্দোলনটি শুরু থেকেই ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থন পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়েছে ঝাড়খণ্ডের বিরোধী দল বিজেপি। দলটি বিক্ষোভ করেছে, রাজ্য বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং কেন্দ্রীয় তদন্তের (সিবিআই) দাবিও জানিয়েছে। আবার কেন্দ্রীয়ভাবে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকারের শরিক দল কংগ্রেসও শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। এ আন্দোলনের প্রধান পরিচিত মুখ দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো নিজেও অনশনে বসেছেন। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্তন এই প্রার্থী জানান, শিক্ষার্থী থাকা অবস্থাতেই তিনি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। আন্দোলনের সমর্থকরা খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিচ্ছেন, যার কিছু সরবরাহ করা হচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।

অভিযোগগুলো ঝাড়খণ্ডের সিআইডি তদন্ত করছে এবং ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরবর্তী ধাপের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশন চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে গত ২২ জুলাই পদত্যাগ করেছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরীক্ষা প্রক্রিয়ার কিছু অংশ পরিচালনা করেছিল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল তা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা প্রশ্ন তোলার পর তদন্তকারীরা ওই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন। ঝাড়খণ্ড সরকারের মন্ত্রী দীপিকা পান্ডে সিং বিবিসি-কে জানান, প্রতিবাদ শুরু হওয়ার আগেই রাজ্য সরকার অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু করেছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের এই লড়াই কেবল একটি পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা নিয়োগের অনিয়ম নিয়ে বিস্তর তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার দাবি জানান। তারা নিয়মিত ও স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা চান, যাতে চাকরি প্রার্থীদের আর অনির্দিষ্টকালের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত