টিসিবি ভবনে বিক্ষোভ, ডিলারশিপ নবায়নের দাবি

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

ডিলারশিপ নবায়নের দাবিতে টিসিবি ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সারা দেশ থেকে আসা টিসিবির ডিলাররা। আজ রবিবার বেলা ১১টায় টিসিবি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

টিসিবি কর্তৃক ২০২৬ সালের জুন মাসে যেসব ডিলারের নবায়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের পুনর্নবায়ন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ তালিকায় থাকা যেসব ডিলার নবায়নের সুযোগ পাননি, তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক দপ্তরে লিখিত চিঠি দিয়ে নিজেদের দাবির কথা জানিয়েছেন তারা। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নবায়ন থেকে বাদ পড়া টিসিবির ডিলাররা।

আন্দোলনকারী ডিলাররা দাবি করেন, তাদের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবিগুলো নিয়ে চলতি বছরের ২১ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরেন তারা। এরপর ২২ ও ২৩ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৩৯ ঘণ্টা অনশন করেন।

পুলিশ জোরপূর্বক তাদের অনশন ভাঙতে বাধ্য করেছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারী টিসিবির ডিলাররা।

টিসিবির ডিলার মো. রবিউল ইসলাম জানান, ধাপে ধাপে তিন পর্যায়ে তদন্তের পর-জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ডিএসবি তদন্ত শেষে টিসিবির নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারশিপ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ৮ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি চিঠিতে টিসিবি কর্তৃপক্ষের সুপারিশ না থাকায় নবায়ন করা হবে না বলে জানানো হয়। পরদিন, ৯ ডিসেম্বর, আরেকটি চিঠিতে কর্তৃপক্ষের সুপারিশ থাকায় নবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়। তবে এখনো কোনো সমাধান না পাওয়ায় জীবন-জীবিকা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনি।

আন্দোলনকারীদের দাবি, বর্তমানে প্রায় সাড়ে আট হাজার টিসিবির ডিলার ও তাদের পরিবার এই ডিলারশিপের ওপর নির্ভরশীল। সারা দেশে প্রায় এক কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির পণ্য সরবরাহ করা হয়। ফলে কয়েক হাজার ডিলার ও তাদের পরিবার জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

আন্দোলনের সমন্বয়ক সোনিয়া জামান জানান, তারা চারটি দাবি নিয়ে রাজপথে অবস্থান করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।

তাদের চার দফা দাবি হলো- ২০২৬ সালের জুন মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ টিসিবির ডিলারদের পূর্ণ নবায়ন বন্ধ রাখার নির্দেশনা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের জুনে যাদের নবায়ন হয়নি, তাদেরও নবায়ন দিতে হবে।

 কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নীতিমালা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর সুযোগ, তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

 ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক প্রণীত ‘ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ এবং পরবর্তীতে জারি করা সংশোধিত নীতিমালা ২০২৫-এর হালনাগাদ/সংশ্লিষ্ট বিধান বাতিল করতে হবে।

 দেশের নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা ও সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে অভিজ্ঞ ও যোগ্য সকল ডিলারের পূর্ণ নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।

এদিকে, আজ বেলা ৩টায় টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।

একপর্যায়ে টিসিবির চেয়ারম্যান আন্দোলনকারীদের তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে দিতে বলেন। এ সময় প্রতিনিধি দলটি দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেওয়ার জন্য দুই ঘণ্টা সময় নেয়।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত টিসিবি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি চলমান থাকবে।তাদের দাবি, নীতিমালার আলোকে বিষয়গুলো বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের চার দফা দাবি মেনে নিতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন আন্দোলনকারী টিসিবির ডিলাররা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত