১১ জন শিক্ষক মিলে পাস করাতে পারেনি ৩ জন শিক্ষার্থীকে 

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন স্টাফ মিলে ৩ জন শিক্ষার্থীকে পাস করাতে পারেনি। ওই বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থী এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু তারা কেউ পাস করেনি। অর্থাৎ বিদ্যালয়টিতে শতভাগ ফেল হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষকসহ ওই বিদ্যালয়ে মোট ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী সরকারি নিয়মে বেতন ভাতা পান। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে এমপিও ভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুমতি পায়। ওই বছর ৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এবারের এসএসসি পরিক্ষায় ৩ শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।

গতকাল সোমবার (১০ আগষ্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। তাতে এই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। 

শতভাগ ফেলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এরআগে বিদ্যালয়টির ফলাফল এমন বিপর্যয় হয়নি। তিন জন শিক্ষার্থী সবাই গণিতে ফেল করেছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, গণিত শিক্ষক ফারুক খালেক। তিনি দীর্ঘদিন থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ। বর্তমানে গণিতের ওই শিক্ষক একটি মামলায় কারাগারে আছেন।

এছাড়া গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু তারা কেউ পাস করেনি। 

এসব বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, কী কারণে বিদ্যালয় দুটিতে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, তা জানতে প্রধান শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এমন ফলাফল প্রত্যাশিত নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত