গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় খুন হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী সালাউদ্দিনের জানাজা ও দাফন ঘিরে এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) ভোর থেকে হাজারো মানুষ ভিড় করে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুল তাইড় গ্রামে। সকাল ৯ টার দিকে বোনারপাড়া সরকারি কাজি আজহার আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সালাউদ্দিনের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়।
এর আগে শনিবার রাত ২ টার দিকে সালাউদ্দিনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি বোনারপাড়া শিমুল তাইড়ে পৌছায়। তিনি ওই গ্রামের সামছুল হক দুদুর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস (ডিগ্রি) পাস করেন।
রবিবার সকালে জানাজায় অংশ নিতে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ, গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম,গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মাওলানা নজরুল ইসলাম, এছাড়া দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মুসল্লিরা ছুটে আসেন। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালাউদ্দিনের তিন ভাই। বোন নাই। ভাইদের মধ্যে সালাউদ্দিন সবার ছোট। বড় ভাই মোশারফ হোসেন সাব্বির (৪০) ও সাদিকুল ইসলাম (৩৫)। তারা সবাই রাজনীতির সাথে জড়িত।
সালাউদ্দিনের মা বিলকিস বেগম (৬৫) বলেন, আমার সাল্লাউদ্দিন ছোট বেলা থেকেই শান্ত। কারো সাথে কোন রাগ করত না। আমার ছেলে তো কারও ক্ষতি করে নাই। তাহলে কেন তাকে এভাবে হত্যা করল ওরা। আমার ছেলে আমাকে ফিরে দাও। মানুষ হয়ে মানুষকে এভাবে মারে। আমি তাদের ফাঁসি চাই। বিচার চাই।
গত ২১ জুন উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে যুবদলের ছুরিকাঘাতে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতির সাইফুল ইসলাম বারী ও সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় সাইফুল ইসলাম বারী ওইদিন মারা যান এবং সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনত হলে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় ৪৮ দিন চিকিসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।
সাঘাটা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা বলেন, সালাউদ্দিন অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। তার প্রথম জানাজার নামাজ রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর মরদেহ গ্রামের বাড়ীতে আনা হয়। ইতিমধ্যে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান বলেন, সকালে সালাউদ্দিনের মরদেহ তার নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
