লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে গতকাল বুধবার আইজিপিকে চিঠি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। একই আশঙ্কায় রাজশাহী ও গোপালগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অসন্তোষ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সমিতির স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। চিঠিতে জানানো হয়, ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সারা দেশে চার কোটি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে কোথাও কোথাও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মনির হোসেন চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। লোডশেডিংয়ের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হওয়াতে সারা দেশে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। কেপিআই স্থাপনায় হামলা হলে অনেক ক্ষতি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।
রাজশাহী : তীব্র গরমের মধ্যে রাজশাহীজুড়ে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। গত কয়েক দিন গ্রামের তুলনায় শহরের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল। তবে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরেও কোনো কোনো এলাকা ৬/৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায়ও গত কয়েক দিন ধরে চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘ ও অনিয়মিত লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে সেচ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জনজীবন।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বিতরণ কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাদের কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ স্থাপনায় পুলিশি নিরাপত্তা চেয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের ক্ষোভ থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই এ নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
চিঠিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি উল্লেখ করে, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অতিরিক্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পুঠিয়া ও বাগমারার গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশি সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিও একইভাবে তাদের কার্যালয় ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ও নাশকতা ঠেকাতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)। গত মঙ্গলবার গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পুলিশ সুপারের কাছে এ অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গোপালগঞ্জ পাওয়ার হাউজ ক্যাম্পাস ও চরপাথালিয়ায় ওজোপাডিকোর দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ দপ্তর, স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাক্সিক্ষত আচরণ বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওজোপাডিকোর দপ্তর ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশ টহলের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক, গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে জরুরি সেবাও। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও।
গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো নির্দিষ্ট হুমকি পাওয়া যায়নি। তবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ সেবা কেন্দ্র করে নাশকতা বা আক্রোশমূলক ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ সুপারের কাছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।