আদেশ বাতিল করে স্বাচিপের চিকিৎসক এলেন ঢাকায়!

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:০০ এএম

আওয়ামীপন্থি চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সব কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন জাতীয় কিডনি হাসপাতালের অধ্যাপক (বায়োকেমিস্ট্রি) ডা. মো. মোরশেদ আলম। মাস খানেক আগে তাকে কিডনি হাসপাতাল থেকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২২ জুলাই রহস্যজনকভাবে বদলির সেই আদেশ স্থগিত করে পুনরায় তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) পদায়ন করা হয়েছে, যা নিয়ে ড্যাব নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

আওয়ামী শাসন আমলে ডা. মোরশেদ আলম স্বাচিপের কর্মকান্ডে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। স্বাচিপের ব্যানারে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশ নিতেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন এবং আওয়ামী লীগের কথিত শান্তি মিছিলে তার নিয়মিত উপস্থিতি ছিল। এসব ঘটনার বহু ছবি ও ভিডিও বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ডা. মোরশেদ আলম কিছুদিন কিডনি হাসপাতালের কর্মস্থলে থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে কতিপয় প্রভাবশালী চিকিৎসক নেতার সঙ্গে সমঝোতা করে তিনি হাসপাতালে ফেরেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় কিডনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ডা. মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ সংস্কারের নামে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় তিনি সমালোচিত হন।

সম্প্রতি প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাকে বগুড়ায় বদলি করা হয়েছিল। তবে সেই আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই তাকে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পদায়ন করা হয়।

বিগত সরকারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক চিকিৎসকের এভাবে সুবিধাজনক স্থানে পদায়নে সাধারণ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্পর্শকাতর এই খাতে ‘বদলি বাণিজ্য’ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন চিকিৎসকরা।

জানতে চাইলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) এনআইসিভিডি (জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল), নিকডু (জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট) এবং এনআইএমএইচ (জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট) শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ডা. মোরশেদ আলমের সঙ্গে ড্যাবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তিনি ড্যাবের সদস্যও নন।

তিনি বলেন, মোরশেদ আলম বিগত সরকারের আমলে নানা সুবিধা ভোগ করেছেন এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের ছবি এবং প্রমাণ রয়েছে। বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন।

জানতে চাইলে ডা. মোরশেদ আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। তিনি সব সময়ই রোগীদের ভালোর জন্য কাজ করে গেছেন। কেউ হয়তো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত