কলম্বিয়ায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ২,৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির সরকার ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। গত ১০ আগস্ট সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ২,৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। শতাব্দীকালের মধ্যে এটি কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

বুধবার (১২ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহতদের সম্মানে সরকারি ভবন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত কলম্বিয়ার দূতাবাসগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। 

দেশটির প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েল্লা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং গৃহহীন পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি ছিল এক শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে পশ্চিম কলম্বিয়াজুড়ে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ ১০০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।   

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে আহতের সংখ্যা ২ হাজার ৫৯৫। তবে বেসামরিকভাবে পরিচালিত একটি ডেটাবেসে এ সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্যোগটি তৃতীয় দিনে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিতদের সন্ধান আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়া মানুষদের জীবিত খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পানি ও খাবারের জোগান থাকলে মানুষ আরও বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারে।

ভূমিকম্পে কালি, পেরেইরা, মানিজালেস এবং কুইবদোসহ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কিছু শহরে উদ্ধারকারী দলগুলো রাতভর কাজ করেছে। পেরেইরা ও কালিতে উদ্ধারকারীরা ক্রেন, অনুসন্ধানী কুকুর এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরা হাতে করে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন।

কলম্বিয়ার কালি শহর পুরোপুরি তছনছ হয়ে গেছে। শহরটির বাড়িঘর ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দমকলকর্মীদের সঙ্গে জীবিতদের সন্ধানে কাজ করছেন। তারা কোদাল, বেলচা ও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন।  

ভূমিকম্প কলম্বিয়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। কালি শহরের হসপিটাল ইউনিভার্সিটারিও দেল ভ্যায়ের একাংশ ধসে পড়ায় চিকিৎসকেরা রোগীদের একটি পার্কিং লটে সরিয়ে নিতে এবং কয়েকজনকে বাইরে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হয়েছেন। 

হতাহতদের সাহায্যে কলম্বিয়ার জনগণ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাদ্য, পানি ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে এসেছেন। রক্তদান কেন্দ্রগুলোর বাইরেও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত