তামিমের সেঞ্চুরিতে লিড বাংলাদেশের

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম

মারনেস লাবুশেন যেন রাগে-ক্ষোভে নিজের মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলেন! প্যাট কামিন্স, অ্যালেক্স ক্যারির চোখেমুখেও হতাশা। ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ বলে মেহেদী হাসান মিরাজের খেলা বলটি গালি অঞ্চলে ক্যামেরন গ্রিনের দিকে ছুটে যায়। ক্যাচের আশায় দুই হাত বাড়িয়ে দেন ফিল্ডার। কিন্তু বল হাতে জমাতে পারেননি। ধারাভাষ্যকার ব্রেন্ডন জুলিয়ানের কণ্ঠে আক্ষেপ, ‘আবারও হতাশা অস্ট্রেলিয়ার।’ এই দৃশ্যই যেন পুরো দিনের গল্প। অস্ট্রেলিয়া সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি।

প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও দাপট বাংলাদেশের। তানজিদ হাসান তামিমের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে চালকের আসনে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের গুটিয়ে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে বাংলাদেশ। ফলে ১৫৩ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা। হাতে এখনো চার উইকেট। দুই দিন শেষে জয়-পরাজয়ের হিসাব পরিষ্কার না হলেও বাংলাদেশের অবস্থান থেকে জয়ের স্বপ্ন দেখা মোটেও বাড়াবাড়ি নয়। মিরাজ ৩২ ও হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। ১৪৭ বলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তারা দলকে আরও এগিয়ে নিচ্ছেন।

তবে দিনের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন তামিম। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসে ছিল ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও সুযোগ কাজে লাগানোর দারুণ উদাহরণ। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘খুব ভালো একটা দিন পার করেছি আমরা। আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রথম সেশনটা কীভাবে কাটাইতে পারি। আমাদের চেষ্টা ছিল স্কোর বোর্ডে কিছু রান যোগ করার। যেহেতু  এখনো তিন দিন আছে, অনেক লম্বা সময়, আমরা চাইব যত বেশি সময় ব্যাট করা যায়। যত বেশি রান করা যাবে, তত আমাদের বোলারদের জন্য কাজটা সহজ হবে।’ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বিউ ওয়েবস্টারও বাংলাদেশের প্রশংসা করেন, ‘বাংলাদেশ দলকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। বিকেলে চাপের মুখে ধারাবাহিকতা ধরে রাখে। তারা স্পিন বল খুব ভালো খেলেছে।’

গতকাল ৩২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেন তামিম। সঙ্গে ৩৫ রান নিয়ে নামেন মুমিনুল হক। প্রথম ঘণ্টা বেশ ভালোভাবেই কাটিয়ে দেন দুজন। ডারউইনের গরমেও তামিম ছিলেন স্বচ্ছন্দ। পানি পানের বিরতির পর বিউ ওয়েবস্টারকে ছক্কা মেরে বড় শট খেলার আত্মবিশ্বাসও দেখান। তবে পরের ওভারেই জশ হ্যাজেলউডের বলে ৪৯ রানে ফেরেন মুমিনুল। ভাঙে ১০২ রানের জুটি। এরপর নাথান লায়নের বলে স্লিপে তামিমের ক্যাচ ছাড়েন স্টিভেন স্মিথ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তামিম এগিয়ে যান। অধিনায়ক শান্তও থিতু হয়ে যান। দুজনের ব্যাটে লিড পায় বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে তামিম ৯৯ ও শান্ত ৪৯ রানে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তামিমই আগে মাইলফলকে পৌঁছান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি গড়েন তিনি।

তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তামিম। লায়নকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর শান্তর সঙ্গে জুটি বাঁধেন মুশফিকুর রহিম। দুজন দলকে এগিয়ে নিলেও নতুন বল হাতে ফিরে ম্যাচে ফেরে অস্ট্রেলিয়া। চা-বিরতির পর জশ হ্যাজেলউডের বলে ৮৪ রানে আউট হন শান্ত। ভাঙে মুশফিকের সঙ্গে ৬৬ রানের জুটি। এরপর লিটন দাস শূন্য এবং মুশফিক ৩৬ রানে ফেরেন। ৩ উইকেটে ২৯৭ থেকে চার ওভারের মধ্যে ৬ উইকেটে ৩০৮ হয়ে যায় বাংলাদেশের স্কোর।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের কৃতিত্ব দিলেও জুটি গড়ার কারণেই লিড নেওয়া সহজ হয়েছে বলে মনে করেন তামিম, ‘তারাও অনেক ভালো বোলিং করেছে। ওদের বিপক্ষে নতুন বলে খেলা বেশ কষ্টকর ছিল। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি বড় শটস না খেলে দৌড়ে রান নিতে, যাতে জুটি গড়া যায়। যার ফলে আমার সঙ্গে শান্ত ভাইয়ের জুটি, তার আগে আমার সঙ্গে মুমিনুল ভাইয়ের জুটি এবং পরে মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে শান্ত ভাইয়ের জুটি বেশ ভালো হয়েছে। এতে রান করা সহজ হয়েছে।’

দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ চাপে পড়লেও মিরাজ ও হাসান প্রতিরোধ গড়েন। তাদের জুটিতে আবারও ম্যাচে আধিপত্য ফিরে পায় বাংলাদেশ। তবে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার বলে নির্ভার হতে পারছে না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ নিয়ে তামিম বলেন, ‘যেহেতু তারা বিশ্বক্রিকেটে আধিপত্য দেখানো দল, অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে।’ ওয়েবস্টারও দিয়েছেন ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা, ‘আমাদের ড্রেসিংরুমে যে মানের খেলোয়াড় আছে, তারা সবাই এই টেস্ট জেতার উপায় খুঁজছে। তবে এখন আমাদের প্রথম কাজ, প্রতিপক্ষের শেষ চার উইকেট যতটা সম্ভব কম রানে ফেলতে হবে এবং তারপর অন্তত দুই দিন খুব ভালো ব্যাটিং করতে হবে। কাজটা কঠিন হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে যেমনটা বললাম, ড্রেসিংরুমের ছেলেদের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে যে আমরা এটা করতে পারব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত