তারেক রহমানকে নিয়ে রুহুল আমিনের গবেষণা গ্রন্থ

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সংগঠক রুহুল আমিন রচিত গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’-এর মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব এর ৩য় তলায় আবদুস সালাম মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (সিবিএস)।

সিবিএস-এর সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজরুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মেঘের সঞ্চালনায় প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি। 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার টফি, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুম এবং মোহনা টিভির নির্বাহী পরিচালক এম এ মালেক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব তাসনিয়া জান্নাত চৌধুরী, শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য শেখ আঁখিনূর জ‍্যোতি,রোকেয়া হল ছাত্রদলের সদস্য আফরা আনান খানম প্রমূখ।

এছাড়াও উক্ত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিবিএস-এর সহসভাপতি শাহীন আক্তার শিমুল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং গ্রন্থটির অনুভূতি ব্যক্ত করেন লেখক রুহুল আমিন। অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ এর গবেষনা ক্ষেত্রে ‘ইনফরমেশন, রিসার্চ এন্ড কালচারাল উইং’ ভিত্তিক ওয়েব সাইট www.ircwing.org উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।

মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক মতবাদ। সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনীতি, গণতন্ত্রের রাজনীতি না, সত্তরের পার্লামেন্ট সেদিন কেবলমাত্র এই বৈষম্যের কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম পার্লামেন্টে ‘তোমরা বাঙালি হয়ে যাও’ কথা বলার মধ্য দিয়ে কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের কথা বলা হলো। কিন্তু এদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে তো সংখ্যালঘিষ্ঠরাও থাকেন। তাহলে গণতন্ত্রের সংস্কৃতির সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠের সংস্কৃতির যে একটা পার্থক্য আছে, এই পার্থক্য সাধারণ নেতাকর্মী আমরা না বুঝলেও কিছু যায় আসে না। কিন্তু যদি সংসদ নেতা না বোঝেন, যদি রাষ্ট্রপ্রধান না বোঝেন, সরকার প্রধান যদি না বোঝেন, যাদের ছবিকে ঘিরে দেশে উত্তাল-পাতাল হয় তারা যদি না বোঝেন, তাহলে তার কি খেসারত দিতে হয়—তা আমরা এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটিতে কান পাতলেই টের পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নৈরাজ্য এবং অদূরদর্শিতার সমস্ত জঞ্জাল দূর করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে আমাদের শহীদ জিয়াউর রহমানকে। মুসলিম, অমুসলিম, বাঙালি, অবাঙালির পরিচয়ের যে রক্তাক্ত অতীত ইতিহাস এবং ঐতিহ্য, তার প্রেক্ষাপটেই শহীদ জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-কে কাঠামোবদ্ধ করেছেন। ধর্ম এবং নৃগোষ্ঠী পরিচয়ের বদলে নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন সেটি প্রবর্তন করেছেন। আজও তা প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের এই জাতীয় পরিচয় ই হচ্ছে আমাদের একমাত্র সমাধান, আমাদের একমাত্র পরিচয় এবং আমাদের একমাত্র সংহতি।’

এ সময় তিনি লেখক রুহুল আমিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তিনি তার বইয়ের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে শিরোনাম এবং সেই শিরোনামের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করেছেন, আজকের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের সরকার গঠন করার সকল অন্তর্নিহিত শক্তির মূল কারণ এবং সেটারই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয়তাবাদকে ধারণ করতে হলে মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রুহুল আমিনের বইটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশ এবং সমকালীন রাজনীতিতে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে পাঠকদের চিন্তার খোরাক জোগাবে।’

এম এ মালেক বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা চলে আসছে, তার ধারাবাহিকতায় রুহুল আমিনের গ্রন্থটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত