প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস অনেকেরই আছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের। শপিং মল, বাসস্ট্যান্ড বা বাইরের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহার করতে অনীহা থেকে অনেকে দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখে। অফিস, মিটিং, টানা পড়াশোনা বা অন্য কোনো কাজ শেষ করার তাড়নায় অনেকেই বারবার প্রস্রাবের বেগ অনুভব করলেও উঠতে চান না। কিন্তু এ অভ্যাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস তৈরি হলে তা মূত্রতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ ফেলে এবং শারীরিক নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। মূত্রথলি বা ব্লাডার সাময়িকভাবে প্রস্রাব জমা রাখতে পারলেও দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই)
প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবে জীবাণু বের হয়ে যায়। আর সেই প্রস্রাব যদি মূত্রথলিতে বেশিক্ষণ থাকে তাহলে ব্যাকটেরিয়াগুলো সেখানে বাসা বাঁধার এবং বংশবৃদ্ধি করার জন্য সময় পায়। এতে মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে।
মূত্রথলি বা ব্লাডারের কার্যক্ষমতা হ্রাস
প্রস্রাব ধরে রাখলে ইউরিন ইনফেকশনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এতে করে মূত্রথলির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। যার ফলে প্রস্রাব করতে গেলেও মূত্রথলি থেকে সম্পূর্ণ প্রস্রাব বের হতে চায় না, কিছু মূত্রথলিতে জমা থাকে এবং প্রস্রাবে ইনফেকশন তৈরি করে। তলপেটে ব্যথা, জ্বর হতে পারে।
মূত্রাশয়ের পেশিতে টান পড়া
প্রস্রাব আটকে রাখার জন্য যে পেশিগুলো কাজ করে, সেগুলো অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে দুর্বল হয়ে যায়। এক ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় প্রস্রাব ধরে রাখেন, তাহলে মূত্রথলির মাংসপেশি দুর্বল হতে শুরু করে এবং প্রস্রাব কিডনির দিকে ফিরে যেতে শুরু করে। যা শরীরের তরল ও বর্জ্য পদার্থের ভারসাম্য নষ্ট করে।
মূত্রাশয় ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা
প্রস্রাব চেপে রাখলে মূত্রাশয় ফেটে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। কাজেই কিডনি ভাল রাখতে যেমন পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি তেমনই প্রয়োজন, সময় মতো মূত্রত্যাগ করাও।
কিডনির ক্ষতি ও পাথর
মূত্রথলি পূর্ণ হয়ে গেলে প্রস্রাব ব্যাক-ফ্লো করে অর্থাৎ উল্টো পথে কিডনিতে ফিরে যেতে পারে। এটি কিডনি ইনফেকশন এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া প্রস্রাবে থাকা খনিজ জমা হয়ে পাথর হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।
দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে কী হয়?
প্রস্রাব ঝরে পড়া রোগ নয়, উপসর্গ