সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরান থেকেই পাঠানো হয়েছে বলে শনাক্ত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ৪ মে ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার পর এটিই এ ধরনের প্রথম ঘটনা বলে জানিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটি। খবর রয়টার্সের।
পরে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ‘নৌ চলাচলকে’ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে দুটিই সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
বুধবার ভোরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইউএইর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির পর দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউএই জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে এমন উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা সোমবার কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা এমন এক সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যার কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, ‘যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার এর আগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা জানিয়ে ইউএইর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল। পরে আরেকটি বার্তায় জানানো হয়, পরিস্থিতি নিরাপদ রয়েছে এবং সবাইকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যেতে বলা হয়।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডিএনওসির জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল ইউএই। তবে এসব হামলার দায় ইরান স্বীকার করেনি।
এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুমকি দিয়ে বলেছিল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যেসব জাহাজ তেহরানের শত্রুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অথবা ইরানের নির্দেশনা মেনে চলবে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।