ইসলামী যুব নেতা হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১১ আসামি 

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০টায় বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহসড়কটি অবরোধ করেন তারা।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সড়কে টায়ার ও বাঁশ-কাঠ পুড়িয়ে অবরোধ করে রা‌খলে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করে। প‌রে ১১টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৬ ঘন্টার ব্যবধানে জড়িত ১১ জন আসামিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, নিহত বুলবুল পেশায় একজন ইজিবাই গ্যারেজ ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করেছিলেন সে। এতে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

এর জেরে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই রাতে সিফাতের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি বুলবুলের  অটোরিকশার গ্যারেজে হানা দিয়ে প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেয়। এ ঘটনায় বুলবুল বন্দর থানায় মামলা করলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে।

সেই ধারাবাহিকতায় ২০ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের সালেহ নগর এলাকায় শেখ সিফাতসহ ১০-১৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি বুলবুলের গতিরোধ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রামদা, চাপাতি ও চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বন্দর থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরে রাতেই  অভিযান চালিয়ে বন্দরের পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ এলাকা থেকে সন্ত্রাসী শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ সিফাত, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুমান, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ, রিয়াদ, মো. সিয়াম, মোসাঃ মিনারা, নাসিমা, রুমা, ইফরান, ইয়াসমিন ও সিজান ওরফে জিসান।

পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত