চট্টগ্রাম নগরের মিমি সুপার মার্কেটের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কৌশলে আত্মসাৎ করা প্রায় ১০০ ভরি ওজনের ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মীসহ ৬জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৮ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- রোমেন দে, শ্যামল সিংহ, লিটন মহাজন, পার্থ মহাজন, জয় দে প্রকাশ বাবু, রুবেল মহাজন ও সাগর কারিগর । শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে নগর পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিমি সুপার মার্কেট ২য় তলায় “নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স” নামের প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী রোমেন দে (৩৬)। তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে ১২/১৩ বছর যাবৎ বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। প্রতি সপ্তাহে একজন স্টাফ দোকানের মালামাল মজুদ স্টক মিলিয়ে রাখতেন।
গত ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের স্টাফরা স্বর্ণের অলংকারের মজুদ স্টক মিলাতে গিয়ে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করলে বিষয়টি দোকানের মালিককে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। সংবাদ পেয়ে মালিক বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা করলে বিষয়টি বুঝতে পেরে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে মালিক দোকানে এসে অন্যান্য স্টাফদের নিয়ে স্বর্ণালংকারের মজুদ স্টক মিলিয়ে দেখতে পান যে, রোমেন দে'র দায়িত্বে থাকা দোকানের মজুদ স্টকের ৭টি বক্সে রক্ষিত ৫৩ টি স্বর্ণের চুড়ি গায়েব। যার ওজন অনুমান ৭৯.৫১ ভরি৷ এসব স্বর্নের বাজারমূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা। রোমেন দে তার অধীনে থাকা ৭টি বক্সে ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ির পরিবর্তে ইমিটেশন চুড়ি রেখে দেন।
এ ঘটনায় দোকানের মালিক নগরের পাঁচলাইশ মডেল থানায় গত ১৫ আগস্ট মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শওকত ইমাম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে রাত সীতাকুন্ড থানাধীন ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দে'কে গ্রেপ্তার করেন।
পরবর্তীতে রোমেন দে'কে আদালতের নির্দেশে ৩ দিনের রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামি রোমেন দে আত্মসাৎকৃত ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্সে বন্ধক রেখেছে বলে জানান। ৫৩টি চুড়ির মধ্যে ৪৬টি চুড়ি নগরের বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর রোড “মডার্ন ইরানী জুয়ের্লাস” মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রেখেছে বলে জানান রোমেন। পরে রোমেন দে'র তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট রাত ৮টায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানাধীন কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে শ্যামল সিংহের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন “মডার্ন ইরানী জুয়ের্লাস” থেকে ৭টি ভিন্ন ভিন্ন ওজনের স্বর্ণের চুড়ি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আসামী শ্যামল সিংহকে ৩ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে শ্যামল সিংহ ৩৯টি স্বর্ণের চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর নিকট বন্ধক রেখেছে বলে জানান।
শ্যামল সিংহের তথ্যমতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কোতোয়ালী থানাধীন “মর্ডাণ রিনা জুয়ের্লাস” থেকে ৩টি, “সাহা জুয়েলার্স” থেকে ১৬টি এবং লিটন মহাজন থেকে ১টি, সাগর কারিগর” থেকে ৫টি, পার্থ মহাজন থেকে ১১টি, রুবেল মহাজন থেকে ৩টি স্বর্ণের চুড়ি জব্দ করা করে পুলিশ।
অপর আসামি রোমেন দে'র দেওয়া তথ্যমতে বাকলিয়া থানাধীন স্বর্ণ বন্ধকী দোকান “মর্ডাণ রিয়া জুয়ের্লাস” থেকে ৩টি, “শাহ আমানত জুয়ের্লাস” থেকে ৩টি, চকবাজার থানাধীন “ফেন্সী জুয়ের্লাস” থেকে ২টি “তাজমহল জুয়ের্লাস” থেকে ১টি স্বর্ণের চুড়িসহ সর্বমোট ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি ।