কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনে ৫ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যুর পর পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশিসহ অনেক পর্যটক ভ্রমণ স্থগিত করে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট এবং নিউ মার্কেট এলাকার স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্ট এবং হোটেল অ্যাসোসিয়েশন টাইমস অব ইন্ডিয়াকে নিশ্চিত করেছে যে, বেশ কিছু পর্যটক সময়ের আগেই কলকাতা ছেড়ে যাচ্ছেন। শহরে আসার কথা থাকা অনেক পর্যটক তাদের ভ্রমণ পিছিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, কলকাতা নিউ মার্কেট এলাকায় শুক্রবার অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগে ও ঝুঁকিপূর্ণ ১১টি হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে নগর পৌরসভা ও দমকল বিভাগ। বন্ধের তালিকায় থাকা হোটেলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রায় কোনও হোটেলেই নিয়ম মানা হয়নি। লাইসেন্স ছাড়া হোটেল চালানো হচ্ছিল।
এক হোটেলের রিসেপশনের দায়িত্বে থাকা কর্মী বলেন, ‘আমাদের এখানে নোটিস লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। বলেছে খালি করতে হবে। আমাদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে; তবে ফায়ার অ্যালার্ম নেই। আগুনের আর কোনও ব্যবস্থা নেই। আমাদের ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে। ২০২৪ সালের পর আর তা রিনিউ করা হয়নি। এখন এখানে পাঁচ-ছয় জন আবাসিক রয়েছেন। খালি করে দেব।’
বাংলাদেশ থেকে শুক্রবার দুপুরেই কলকাতায় এসেছেন ফাহিম নামে এক যুবক। আগে থেকেই হোটেল বুক করা ছিল তার। কিন্তু হোটেলে পৌঁছানোর পর জানিয়ে দেওয়া হয়, ঘর পাওয়া যাবে না। কারণ হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফাহিম বলেন, “বাংলাদেশ থেকে এই মাত্র এসেছি। এখানে উঠেছিলাম। চলে যেতে বলল। ”
আনন্দবাজার বলছে, ১১টি হোটেল বন্ধের পর নতুন করে নিউ মার্কেট এলাকার ১৭টি হোটেলে শুক্রবার কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাদেরও উত্তর দিতে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না পেলে ওই হোটেলেও ব্যবসা বন্ধের নোটিস সাঁটা হবে।
এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, অনেক পর্যটকই প্রশাসনের কঠোর অভিযানের মুখে পড়া এড়াতে চাচ্ছেন। ১৫ জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ভেতরের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানরত কিছু পর্যটক ভ্রমণ স্থগিত করে বৃহস্পতিবার দেশের উদ্দেশ্যে বাসে উঠেছেন।
ইসমাইল সরকার নামে ঢাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা এলাকার হোটেলগুলোতে প্রশাসনের কোনো অভিযানে আটকে পড়তে চাই না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরে আসা যাবে।’
কাঁটাতার বসাতে সময় বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট