খাবার অপচয়ে রিজিকের অবমূল্যায়ন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫০ এএম

আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত আমরা ভোগ করি। খাদ্য সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। সব সৃষ্টির রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহরই।’ (সুরা হুদ ৬) রিজিকের অন্যতম উপাদান হলো খাদ্য। কারণে-অকারণে খাদ্য অপচয় করা হয়, যা খুবই গর্হিত কাজ এবং রিজিকের অবমূল্যায়ন। তাই যেসব কারণে খাদ্য অপচয় হয়, সেগুলো থেকে বিরত থাকা কাম্য।

খাদ্য অপচয় করার একটি কারণ হলো লৌকিকতা প্রদর্শন। অর্থাৎ কোনো বিশেষ মেহমানকে কেন্দ্র করে এই পরিমাণ খাবার প্রস্তুত করা হয়, যা কখনোই তার পক্ষে খাওয়া সম্ভব নয়। শেষে তা অপচয় হয়। কখনো নিজেদের সক্ষমতা প্রকাশ করতে গিয়ে আমরা খাবার অপচয় করি। সক্ষমতা দেখাতে হরেক রকম বাহারি খাবারের আয়োজন করি আমরা। যা অধিকাংশ সময়ই অপচয় হয়।

অহংকারের কারণেও খাবার অপচয় হয়। দেখা যায়, আমাদের অনেক মানুষ বড় একটা খাবার অর্ডার করে বসে পড়ে, অথচ তার এক-পঞ্চমাংশ খাওয়ার সাধ্যও তার নেই। শেষে সামান্য খেয়ে বাকিটা ফেলে রেখে যায়। তাড়াহুড়াও কখনো খাবার অপচয়ের মাধ্যম হয়। কেউ কেউ হিসাব-নিকাশ ছাড়াই শুরুতে একসঙ্গে অনেক খাবার নিয়ে বসে পড়ে। চিন্তা করে, শেষে যদি না পাই! কিন্তু সে এ চিন্তা করে না যে, যদি খেতে না পারি?

অসতর্কতাও খাবার অপচয়ের একটি কারণ। খাবার শেষে যদি খাবার অতিরিক্ত হয়, তা যদি আমরা সুনির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করি, তাহলে তো খাবারের অপচয় ও নষ্ট হয় না। কিন্তু দেখা যায়, অনেকেই সেক্ষেত্রে উদাসীনতার পরিচয় দেয়। খাবার যথাযথ নিয়মে সংরক্ষণ করে না। ফলে খাবারের অপচয় হয়।

রিজিক অপচয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, আল্লাহর দেওয়া রিজিকের অবমূল্যায়ন। আমরা চিন্তা করি, একটু নষ্ট হলে কী আসে যায়? পরের বার আবার কিনে নেব। কিন্তু যদি আল্লাহর রিজিকের পূর্ণ মূল্যায়ন অন্তরে থাকে, তাহলে এমন চিন্তা কখনো মাথায় আসার কথা নয়।

এ জাতীয় নানা কারণে আমরা যে কী পরিমাণ রিজিক অপচয় করি, তা কল্পনাতীত। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, উন্নত বিশ্বের বড় বড় শহরে যে খাবার অপচয় হয় তার এক-দশমাংশ খাবার পুরো বিশ্বের খাবার-বঞ্চিত মানুষের দুই বেলা খাবার হিসেবে যথেষ্ট হবে। কিন্তু যারা বিনা কারণে ডাস্টবিনে খাবার ছুড়ে ফেলে, তারা কি এই অসহায়দের খবর রাখে? মহান আল্লাহ সবাইকে বুঝার তৌফিক দান করুন। আমিন।

            লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত