ক্লাব ফুটবলের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন আর্জেন্টিনার দুই তারকা হুলিয়ান আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেজ। দলবদলের গুঞ্জন ও ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছার কারণে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তাদের ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ। স্পেনের ওয়ান্ডা মেট্রোপলিতানো থেকে ইংল্যান্ডের স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ; উভয় ঠিকানাতেই এখন নিজের সমর্থকদের উষ্মা ও দুয়োধ্বনির মুখে পড়তে হচ্ছে এই দুই আর্জেন্টাইন তারকাকে।
আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই দর্শকদের রোষানলে পড়েন আলভারেজ। বার্সেলোনার সঙ্গে দলবদলের গুঞ্জন এবং মাঠে সমর্থকদের একাংশের দুয়োধ্বনি তার রাতটিকে করে তোলে বিষময়। ম্যাচ শেষে সতীর্থরা যখন গ্যালারির দিকে অভিবাদন জানাতে যান, তখন ক্লাব কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যেতে হয়।
আলভারেজের এই আচরণ ও মনমরা ভাব নিয়ে ড্রেসিংরুমেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। স্প্যানিশ রেডিও 'কাদেনা সার'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচ ডিয়েগো সিমিওনে ও সতীর্থরা প্রকাশ্যে আলভারেজের পাশে দাঁড়ালেও পর্দার আড়ালে তার এই হতাশাজনক আচরণে দলের অন্দরে কিছুটা ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দলের ভেতর শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এই পরিস্থিতি ঘরের মাঠে দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, চেলসির জার্সিতে একই রকম তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এনজো। ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে প্রাক-মৌসুমের শেষ ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মুহূর্তেই গ্যালারির একাংশের তীব্র দুয়োধ্বনির মুখে পড়েন এই মিডফিল্ডার। যদিও ম্যাচটি জিতে মাঠ ছাড়ে চেলসি, তবে ১২ কোটি পাউন্ডের মূল্য নির্ধারিত থাকা এনজোকে নিয়ে ক্লাব সমর্থকদের এই অনীহা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগে ব্লুজ শিবির কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রেখেছে।
কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর সবশেষ উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার গৌরব মাথায় নিয়ে ক্লাব ফুটবলে নতুন চ্যালেঞ্জে নামলেও সমর্থক ও দলের মন জয় করা এখন আলভারেজ ও এনজো উভয়ের জন্যই এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতকে উড়িয়ে এক যুগ পর বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা