রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর: বাংলাদেশের প্রশংসায় ব্রিটিশ হাইকমিশন

রাখাইনে সংঘাত, বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা ও ত্রাণ-সহায়তায় বাধার কারণে এখনই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নেই।

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। সংকটের নবম বার্ষিকীতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাহস, ধৈর্য ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও মর্যাদা ধরে রাখার প্রশংসা করেছে ব্রিটিশ হাইকমিশন, ঢাকা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্রিটিশ হাইকমিশন এসব কথা জানায়। একই সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

পোস্টে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে বর্তমানে রাখাইনসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ত্রাণ ও বাণিজ্যে বাধা মানবিক সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে নতুন করে মানুষের বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে। বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পালাতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এর মধ্যে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

রাখাইনে ফিরে গিয়ে নিজেদের বাড়িঘর, জীবিকা ও সম্প্রদায় নতুন করে গড়ে তুলতে রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সফল প্রত্যাবাসনের জন্য এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ হাইকমিশন।

প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির পথ খুঁজতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। সেই পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় শুধু মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখাই যথেষ্ট নয়, সহায়তা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ব্রিটিশ হাইকমিশন। স্থানীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নেতৃত্বাধীন পক্ষগুলোর সহায়তা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ভূমিকা বাড়ানোর পক্ষে তারা।

রোহিঙ্গাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেগুলোতে তাদের নিজেদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট এখন দশম বছরে প্রবেশ করছে। এই দীর্ঘ সংকটে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যেন বিশ্বের নজর থেকে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ হাইকমিশন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত