মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈশি^ক সমর্থন টিকিয়ে রাখতে ১৬টি দেশ ও জোটের দূতাবাস বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে। দূতাবাসগুলো গতকাল মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানায়।
বিবৃতি প্রদানকারী দূতাবাসগুলো হলো হলো কানাডা, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কসভো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের গণস্থানচ্যুতির দশম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে দূতাবাসগুলো এ বিবৃতি দেয়।
মিয়ানমারের রাখাইনে সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের জাতিনিধনমূলক হামলায় ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের হিসাবে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে।
দূতাবাসগুলো বলছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত রাখাইনজুড়ে সংঘাত এবং মানবিক চাহিদা বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা, বেসামরিক অবকাঠামোতে বিমান হামলা, সাহায্য ও বাণিজ্যের ওপর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অবরোধ মানবিক সংকটকে তীব্রতর করেছে। এই অস্থিতিশীলতা আরও বেশিসংখ্যক মানুষকে বাংলাদেশে এবং সমগ্র অঞ্চলজুড়ে বাস্তুচ্যুতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রার সময় মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটছে। এই পরিস্থিতি বর্তমানে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণভাবে এবং টেকসইভাবে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে না।
দূতাবাসগুলো মনে করে, প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরির জন্য বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা করা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থ তৈরি করা এবং মিয়ানমারে বৃহত্তর শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি কৌশলগত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপন্থা প্রয়োজন হবে। সফল প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সম্প্রদায় পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন হবে।
দূতাবাসগুলো প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরির পথ খুঁজে বের করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। দূতাবাসগুলো মনে করে, রোহিঙ্গাদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই তাদের কণ্ঠস্বর থাকতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট যখন দশম বছরে পদার্পণ করছে, তখন সবাইকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যেন বিস্মৃত না হয়।