সরকারি অফিস ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ার বা সোফার পেছনে বিধিবহির্ভূতভাবে পতাকা প্রদর্শন করা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। আদেশে বিধি বহির্ভূতভাবে যাতে জাতীয় পতাকার প্রদর্শন করা না হয়, সে বিষয়ে সব মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরগুলোর উদ্দেশে মন্ত্রী পরিষদ সচিবকে পরিপত্র দিতে বলা হয়েছে। রুলে পতাকা পেছনে রেখে সরকারি কর্মকর্তারা সামনে অবস্থান করছেন, এই ধরনের পতাকার ব্যবহার কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) সদস্য অ্যাডভোকেট শরিফ সরকার। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারি বিভিন্ন অফিসে কর্মকর্তারা তাদের টেবিলের পেছনে বা চেয়ারের পাশে ও পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন। জাতীয় পতাকা ঢেকে রেখে তারা সামনে বসছেন। এটি আইনবহির্ভূত। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের জাতীয় পতাকা বিধিমালায় ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদের বাসস্থান, দপ্তর, বাসস্থানে এবং গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া ৮ শ্রেণির ব্যক্তি তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করতে পারবেন। এর বাইরে কোনো সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারী তাদের অফিসে সোফা বা চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের কোনো সুযোগ বিধিমালা দেওয়া হয়নি। সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিধিমালায় না থাকার পরেও সরকারি সংস্থা, অফিস, করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনগুলোতে অফিস কক্ষের ভেতরেই তারা পতাকা প্রদর্শন করছেন। এ ধরনের প্রবণতা বেআইনি। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ও রুল দিয়েছে।’