যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মামলার শুনানি দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এ মামলায় ইনস্টাগ্রামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যাডাম মোসেরি স্বীকার করেছেন, কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো ঠেকাতে তৈরি ‘টেক অ্যা ব্রেক’ ফিচারটি ডিফল্টভাবে চালু হওয়ার আগে খুব কমসংখ্যক কিশোর এটি ব্যবহার করত। খবর আল-জাজিরার।
মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষ্য দেন ২০১৮ সাল থেকে ইনস্টাগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে আসা মোসেরি। যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, কিশোরদের আকৃষ্ট ও আসক্ত করে রাখতে মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মোসেরি বলেন, ‘টেক অ্যা ব্রেক’ ফিচারটি ডিফল্টভাবে চালু করতে দেরি করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
মোসেরি বলেন, 'বেশির ভাগ কিশোরই এটি চাইত না। তারপরও আমরা এটি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।'
২৯টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলায় মোসেরি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তরুণদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আইনি পরীক্ষা।
এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি অভিযোগ করেছে, মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে তরুণদের প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার মতো করে সেগুলো তৈরি করেছে। এর ফলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে মেটা ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে বলেও দাবি করেছে অঙ্গরাজ্যগুলো।
অন্যদিকে, ২৯টি অঙ্গরাজ্যই অভিযোগ করেছে, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুরা মেটার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার সময় তাদের ব্যক্তিগত তথ্য যথাযথ অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ ও ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে।
অঙ্গরাজ্যগুলো মেটার কাছে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তবে মেটা শিশুদের আসক্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে—এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের গবেষণায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে তাদের সুস্থতার ঘাটতির মধ্যে কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
কলোরাডোর আইনজীবী জেসন স্লথহুবারের জেরার মুখে মোসেরি স্বীকার করেন, ইনস্টাগ্রাম ‘টেক অ্যা ব্রেক’ ফিচারটি ডিফল্টভাবে চালু করার আগে এটি ব্যবহারকারী কিশোরদের হার ছিল এক অঙ্কের ঘরে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীদের খুবই ছোট একটি অংশ ফিচারটি ব্যবহার করত।
‘টেক অ্যা ব্রেক’ ফিচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর কিশোর ব্যবহারকারীদের অ্যাপটি বন্ধ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে মোসেরি জানিয়েছিলেন, ফিচারটি চালু করা ৯০ শতাংশের বেশি কিশোর পরবর্তীতেও এটি চালু রেখেছিল।
তবে আদালতে স্পষ্ট হয়, ওই ৯০ শতাংশের হিসাব ছিল কেবল যারা নিজেরাই ফিচারটি চালু করেছিল তাদের মধ্যে। ফিচারটি মোট কতজন কিশোর ব্যবহার করত, তা বোঝায়নি।
মেটা ফিচারটির কম ব্যবহার সম্পর্কে প্রকাশ্যে তথ্য দিয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে মোসেরি স্বীকার করেন, প্রতিষ্ঠানটি জানায়নি যে মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ অ্যাকাউন্টে ফিচারটি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালে চালু হওয়া ‘টিন অ্যাকাউন্টস’-এ নিরাপত্তা ফিচারগুলো ডিফল্টভাবে চালু করা হয়। এসব অ্যাকাউন্টে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রয়েছে।
মেটার সাবেক কর্মীরাও বলেছেন, ‘টেক অ্যা ব্রেক’ ও ‘কোয়ায়েট মোড’-এর মতো ফিচার খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল এবং এগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো না। ফলে তরুণদের স্ক্রিন টাইম কমাতে প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।