একজন দুখু মিয়া

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৬ এএম

কারও কারও স্পর্শ বাংলা সাহিত্যকে ধন্য করেছে। এখানেই বোধ হয় বাংলা সাহিত্যের সার্থকতা, সবার জন্যই মগজ ও হৃদয়ের দরজা খোলা। তেমনই দুখু মিয়ার (বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম) দুঃখ থেকে সৃষ্টি হওয়া শব্দ, বাক্য আর অমর ধ্বনি আজও সেভাবেই প্রতিধ্বনিত। সময়ের স্রোত অনেক কিছু মুছে দেয়, অনেক ইতিহাসই আমরা ভুলে গেছি, অনেক কিছুই ভুলে যাবও; কিন্তু কিছু অধ্যায় ভোলা যায় না। দুখু মিয়া চলে গেছেন, অথচ তার সেই পদচিহ্ন ঠিকই আঁকা আছে প্রতিটি প্রতিবাদে। বিরহ থেকে যে শব্দের জন্ম তা চির অমর। আরও শত বছর পরও সঞ্চিতার পুরনো হলদে মলাটের ভেতর থেকে অনেকেই কণ্ঠ কাঁপিয়ে বলে উঠবেন, ‘বল বীর, বল চির উন্নত মম শির!’ কেউ কেউ বলবেন, ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে/দিসনে আজি দোল।/আজো তার ফুলকলিদের ঘুম টুটেনি/তন্দ্রাতে বিলোল...’।

দুখু মিয়ার জীবন ছিল দারিদ্র্য, সংগ্রাম, বঞ্চনা ও প্রতিকূলতায় গণ্ডিবদ্ধ। অথচ সেই জীবন থেকেই বের হয়ে এসেছে বিদ্রোহের ভাষা, প্রেমের কবিতা, সাম্যের গান আর মানবতার অমোঘ বাণী। তার কলমের আঁচড় যেমন আঘাত হেনেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, আবার সেই আঁচড়ই কখনো প্রেমে, কখনো প্রকৃতিতে বা মানুষের মমতায় হয়ে উঠেছে আশ্চর্য কোমল। এ তো তারই রচনা ‘আঁচড়ই বিরহে ভীষণ শান্ত, আর স্বপ্নে হয় না কান্ত...’।

দুখু মিয়া ক্ষণজন্মা। তার সৃষ্টির দ্বিতীয় জন্ম সম্ভব নয়। সেই সৃষ্টির মধ্যেই বেঁচে আছেন তিনি, আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ২৯ আগস্ট, তার প্রয়াণ দিবসে তাকে স্মরণ করি বিনম্র শ্রদ্ধায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত