নেপালে আকস্মিক হড়পা বানে (পাহাড়ি ঢল) বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৩৯ জন পর্যটক আটকে পড়েছেন। এর মধ্যে দুই পর্যটকের সন্ধান মিললেও বাকি ৩৭ জনের এখনও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের রাজনৈতিক নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা রায়ও, যিনি কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় গিয়ে নিখোঁজ হন। খবর আনন্দবাজার ডট কম।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বসিরহাটের দুই পর্যটককে কাঠমান্ডু থেকে বিশেষ বিমানে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। বাকিদের উদ্ধারে নেপালে রাজ্য সরকারের একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনদের সুবিধার্থে ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার পর্যটকদের বিষয়ে জানতে চীন সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে যাওয়া ৩২ জন পর্যটকের খোঁজে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গে তল্লাশি চালালেও এখনও কারও সন্ধান মেলেনি। এর মধ্যে নেপালে আবার হড়পা বানের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। সে কারণে শনিবার আর সেখানে পর্যটকদের খোঁজ চালানো সম্ভব হবে না বলে জানান ওই সংস্থার প্রধান। তিনি জানান, তিন জনকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। সংস্থার এক কর্মী সেখানে থেকে খোঁজখবর চালিয়ে যাবেন।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে এখনও অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। তবে ইতোমধ্যে তামিলনাড়ুর ২১ জনসহ মোট ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফেরানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে নেপাল সরকার বিদেশি উদ্ধারকারী দল প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেও বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক চাপের মুখে সেই সিদ্ধান্ত বদলেছে। ফলে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল এখন নেপালে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে, যা উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কাঁদছে নেপাল, মর্গেও জায়গা নেই
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার শঙ্কা, আবারও উদ্ধারকাজ চালু করল চীন