বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা ও ভাঁজ পড়া মানবদেহের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়াকে বলে Intrinsic aging বা প্রাকৃতিক বার্ধক্য। সাধারণত বয়স ২৫ বছরের পর থেকে ত্বকে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ক্রমে কোলাজেন উৎপাদন কমে যায়, ইলাস্টিন ফাইবার দুর্বল হয়ে পড়ে, কোষ পুনর্গঠনের গতি ধীর হয়ে যায় এবং ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হ্রাস পেতে থাকে। ফলে ত্বক শুষ্ক, পাতলা ও কম নমনীয় হয়ে পড়ে। বলিরেখার পেছনের কারণগুলোর হলো বংশগত প্রভাব, ঘুম ও বিশ্রামের ঘাটতি, ধূমপান ও অ্যালকোহল, খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনধারা যেমন অল্প ঘুম, রাত জাগা, শরীরচর্চার অভাব, পানি কম পান ইত্যাদি বদঅভ্যাস ত্বকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে।
চিকিৎসা : বলিরেখা কমাতে আধুনিক পদ্ধতি বোটক্স কার্যকর। এটি নিউরোটক্সিন, যা ইনজেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পেশিতে দেওয়া হয়। এতে ভাঁজ বা বলিরেখা মসৃণ হয়। সাধারণত ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো সুস্থ ব্যক্তি এ চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন। চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ডার্মাল ফিলার, লেজার থেরাপি ও মাইক্রোনিডলিং, চজচ থেরাপি ইত্যাদি।
প্রতিরোধের উপায় : বলিরেখা এড়াতে প্রতিদিন দুবার সানস্ক্রিন (ঝচঋ ৩০ বা তার বেশি) ব্যবহার করুন। রোদে বাইরে গেলে ছাতা, হ্যাট বা সানগ্লাস পরুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ১-২ দিন স্ক্রাবিং ও ফেস মাস্ক ব্যবহার করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন (দৈনিক ৮-১০ গ্লাস)। প্রতিদিন শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, ডিম, মাছ খান। প্রক্রিয়াজাত খাবার, সফট ড্রিংকস ও চিনি কমান। গ্রিন বা হার্বাল টি পান করুন। রাত ১০টার মধ্যে ঘুমানো ও কমপক্ষে ৭ ঘণ্টা ঘুমানো নিশ্চিত করুন। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন। ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ করুন। মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন করুন। ঘুমানোর সময় সিল্ক বা সাটিন বালিশ ব্যবহার করুন।