পাঠক থেকে বুক ইনফ্লুয়েন্সার অথৈ দাসের বইযাত্রা

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

বই পড়লে মানুষের চিন্তাশক্তি প্রখর হয় এবং পরিচিত হওয়া যায় নতুন নতুন অজানা কাহিনির সঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে অনেকেই বই পড়তে ভুলে গিয়েছে, কিন্তু আজও কারও কারও জীবন বদলে ভূমিকা রাখছে বই। তাদেরই একজন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশলের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী অথৈ দাস। অথৈ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর গ্রামের মেয়ে। মা-বাবা আর বোনভাইসহ চার সদস্যের পরিবার। স্কুলের পড়াশোনার সময়টুকু বাদে অন্য সময় বই নিয়েই কাটত অথৈর। এক সময় পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে লাইব্রেরি সম্পর্কে জানতে খোঁজ নেন, জানতে চান কোথায় বই পড়ার সুবিধা আছে। তখন তার চাচাতো ভাইয়ের সহযোগিতায় উপজেলা এবং জেলার লাইব্রেরিগুলোতে গিয়ে বই পড়তেন এবং সদস্য হয়ে বই ধার আনতেন। এরপর থেকেই বইয়ের নেশা পেয়ে বসে। হাত খরচ আর অযথা টাকা খরচ না করে পছন্দের বই কেনা শুরু করেন। অথৈ জানান, আমি ১০ বছর ধরে নিয়মিত পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস পড়ি এবং মাসে ৮-৯টা বই পড়ার চেষ্টা করি। তবে ইতিহাস, রাজনীতি সম্পর্কিত বইগুলো সবসময় আমার পছন্দের তালিকায় থাকে। আর বিমল মিত্রের লেখা ‘সাব ঝুট হ্যায়’ বইটি আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। অথৈ দাস বলেন, ভালো মানুষ হওয়ার পথে বই আমাকে সাহায্য করছে আর আমি জীবনে অনেক ভালো মানুষ হতে চাই। সেই পথে বই সবচেয়ে বড় বন্ধু। বই আমাকে বিনয়ী হতে সাহায্য করে, নতুন ভাবনায় নিজেকে মাতিয়ে রাখতে সাহায্য করে। তাই পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বই পড়ার সময় বের করি আমি। পড়াশোনাই আমার কাজ। তাই অন্যভাবে সময় বের করতে পারি না বেশি। মোবাইলের যুগে তরুণদের বই পড়ার বিষয়ে তার পরামর্শ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার আসলে বইয়ের জগতের আনন্দ নেওয়া উচিত। পড়ে দেখতে পারেন, কখনো আক্ষেপ করতে হবে না। তিনি ইড়ড়শং ধহফ গড়ৎব রিঃয অঃযধর নামে একটা ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন, যেটির বর্তমান অনুসারী প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজারেরও বেশি। প্রতিনিয়ত তিনি এই ফেসবুক পেজে  বইয়ের রিভিউ এবং পাঠকদের বই পড়তে উৎসাহিত করেন। অথৈ একসময় ফেসবুকে নিয়মিত বইয়ের রিভিউ দিয়েছেন। কয়েক মাস যাবৎ বইয়ের রিভিউ বন্ধ রাখলেও পাঠকদের বইয়ের ভালোমন্দ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া বন্ধ হয়নি। বই এবং জীবন নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন বইয়ের পাশাপাশি আমি ভিন্ন গল্প নিয়ে কাজ করছি। বই নিয়ে কাজ করে যেতে চাই সবসময়। ব্র্যাক ও বিবিসির সঙ্গে আমাদের কিছু দারুণ কাজ হয়েছে। এই ধরনের কাজ আরও করতে চাই ভবিষ্যতে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে অথৈ বলেন, যতদিন বাঁচব আমি ভালো মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই। পরিকল্পনা বলতে সমুদ্রের পাশে একটা বুক ক্যাফেতে কাজ করতে চাই।

এ পর্যন্ত আসার পেছনে অনুপ্রেরণা মনে করেন বইয়ের পাঠকদের ভালোবাসা। যখন সবাই পাঠবিমুখ তখন বই নিয়ে কনটেন্ট যে এত জনপ্রিয় হবে তা তিনি ভাবেননি। বইয়ের পাঠক আর পেজের অনুসারীদের ভালোবাসাই তার কাজের প্রেরণা। ভিডিও বানানোতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও জীবনসঙ্গী আনন্দ দাস। তিনি বলেন, আমার বুকস অ্যান্ড মোর উইথ অথৈয়ের সব ভিডিও এবং পেছনের কাজ এই মানুষটাই দেখে। আমি ধন্য জীবনে এই কারণে। আমরা দুজনই বই পাগল মানুষ। আমাদের সংগ্রহে প্রায় ৫ হাজারের মতো বই আছে। আমরা সবসময় বইকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচতে চাই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত