রূপায়ণ সিটিতে ড্যাফোডিল স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন

শিক্ষায় শুধু জিপিএ নয়, দক্ষ মানুষ গড়তে হবে: সবুর খান

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

শুধুমাত্র প্রথাগত পরীক্ষা ও জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক জিপিএ-নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের উপযোগী দক্ষতা গড়ে উঠছে না। ফলে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে তাদের যোগাযোগ দক্ষতা, পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হচ্ছে। তাই গতানুগতিক পরীক্ষা পদ্ধতির মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও মানবিক মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।

আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উত্তরার রূপায়ণ সিটিতে আয়োজিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন-২০২৬ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সবুর খান বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা বইয়ের চেয়ে প্রযুক্তি ও গেমসের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। নগর জীবনে খেলার মাঠ ও খোলা জায়গার চরম সীমাবদ্ধতার কারণে স্কুলের ভেতরের আয়োজনের মাধ্যমেই তাদের নতুন দক্ষতা শেখানোর উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা ও বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। তাদের বাস্তব করপোরেট ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যেন করপোরেট অফিস পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সরাসরি দেখতে পারে এবং বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আগামী দিনে আমরা এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করব। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরে ড. সবুর খান তাঁর বাল্যকালের স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা ছোটবেলায় যে সরকারি স্কুলগুলোতে পড়েছি, সেগুলো একসময় অনেক মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু আজ সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও অবস্থা অনেক নিচে নেমে গেছে। প্রকৃতিগতভাবে হয়তো সেখানকার গাছপালা বড় ও সুন্দর হয়েছে, কিন্তু যে মাঠ বা পরিবেশ আগে ছিল, তা রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এই দৈন্যদশা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বের করে আনতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনিও সরকারি স্কুলের অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অবস্থার এই পরিবর্তনের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন, যা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

শিক্ষায় উদ্ভাবন ও গুণগত মানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, কেবল শতভাগ পাস বা বড় ভবন থাকলেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ‌‘মানসম্মত’ বলা যায় না। সরকারের উচিত কোনো প্রতিষ্ঠান বাস্তব জীবনে কতটা মূল্য সংযোজন করতে পারছে এবং কতটা উদ্ভাবনী নেতৃত্ব তৈরি করতে পারছে, তার ভিত্তিতে মানদণ্ড নির্ধারণ করা।

শিক্ষকদের মান উন্নয়ন শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে ড. সবুর খান বলেন, শিক্ষকরাই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান উপাদান। তাদের প্রশিক্ষণ না দিয়ে শুধু বাহ্যিক অবকাঠামো উন্নত করলে আসল পরিবর্তন আসবে না। এ কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের ভয় দূর করে কথা বলা ও নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়ার জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত