আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ। দিবসটি সামনে রেখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পরিকল্পনা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, দুর্গম এলাকায় শিক্ষা বিস্তার, বাজেট বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দেশ রূপান্তরকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, সরকারের মূল ফোকাস এখন শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ানো নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা।
দেশ রূপান্তর : আজ বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস। দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক সাক্ষরতার হার বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কী কী বড় পদক্ষেপ নিয়েছে?
ববি হাজ্জাজ : সাক্ষরতার হার এখন বাংলাদেশে প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি চলে এসেছে। তাই আমাদের মূল ফোকাস এখন শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ানো নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা। এ জন্য তিনটি ভিন্ন বয়সভিত্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আমরা বিশেষ নতুন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। যেমনÑ সিইইপি প্রজেক্টে ঝরেপড়া বা শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের সংক্ষিপ্ত বা অ্যাক্সিলারেটেড শিক্ষার মাধ্যমে পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের আসার জন্য উৎসাহিত করা। আলফা স্কিল প্রজেক্টে বয়স্ক ও যুবকদের জন্য ফাউন্ডেশনাল এডুকেশনের (ভাষা ও গণিত) পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
দেশ রূপান্তর : প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরের ব্যক্তিদের জন্য কারিগরি বা কর্মমুখী শিক্ষার বিষয়টি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে?
ববি হাজ্জাজ : এটি আমাদের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি যৌথ উদ্যোগ। অর্থায়ন করছে বিএনএফই। আর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনস্থ ইনস্টিটিউটগুলো।
আমাদের ‘স্কিল’ প্রজেক্টের সফল পাইলটিং সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী কোর্স শেষে চাকরি বা কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছে। পাইলট প্রজেক্টের এই সাফল্যের পর আগস্ট মাস থেকে এটি দেশব্যাপী বৃহৎ আকারে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
দেশ রূপান্তর : দুর্গম, পাহাড়ি বা নদীভাঙন এলাকার বঞ্চিত মানুষের কাছে শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ পৌঁছাতে কী বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে?
ববি হাজ্জাজ : ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেমন নদীভাঙন এলাকার জন্য অবকাঠামো এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে যেন তা প্রয়োজনে স্থানান্তর করা যায়। পাহাড়ি এলাকায় তিন পার্বত্য জেলায় জেলা পরিষদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে দুর্গম এলাকা ভাতা (হার্ডশিপ অ্যালাউয়েন্স) দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দুর্গম অঞ্চলের স্কুলগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অবকাঠামো তৈরি ও আবাসিক/রেসিডেনসিয়াল ব্যবস্থার পরিকল্পনা চলমান রয়েছে।
দেশ রূপান্তর : শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি ও তার সঠিক বাস্তবায়নে মনিটরিং ব্যবস্থা কতটা জোরদার করা হয়েছে?
ববি হাজ্জাজ : বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ইতিমধ্যে বাড়ানো হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আগামী বছরগুলোতে এটি আরও বাড়বে। প্রাথমিকে বরাদ্দ করা অর্থের যেন কোনো অপচয় না হয় এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য আমাদের মনিটরিং সিস্টেম খুব শক্তভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে।
দেশ রূপান্তর : তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষাক্রম চালুর যে বিষয় আলোচনায় ছিল, সেটি প্রাথমিক শিক্ষায় কবে নাগাদ শুরু হতে পারে?
ববি হাজ্জাজ : এটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিষয় হলেও প্রাথমিকে আমাদের বর্তমান মূল লক্ষ্য হলো বাংলা ও গণিতের পাশাপাশি দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি শিক্ষা শক্তিশালী করা। আগামী দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ভাষায় ভিত্তি মজবুত করার পর আমরা ধাপে ধাপে তৃতীয় ভাষা চালুর দিকে যাব।
দেশ রূপান্তর : সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয়ের কিছু চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা যুক্ত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
ববি হাজ্জাজ : প্রাথমিকে শিশুদের শুরু থেকেই ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিষয়টিকে নতুন কারিকুলামে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।