ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ৫০ বছরের পুরনো একটি বহুতল ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেসমেন্টে মেরামতের কাজ করার সময় পিলারের ভারসাম্য ভেঙে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে। গত রবিবার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও ছয়জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জীর্ণ ভবনটিতে সংস্কারকাজ চলছিল। বেসমেন্টে কাজ করার সময় একটি মূল পিলার ভেঙে পড়ে। ফলে ভারসাম্য হারিয়ে পুরো ভবনটি মুহূর্তের মধ্যে ধসে মাটিতে মিশে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমে থাকা পানি ও অবৈধ সংস্কারকাজের ফলে বেজমেন্টের পিলার দুর্বল হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা গতকাল সোমবার জানিয়েছেন, বেসমেন্টে জমানো পানি এবং পুরনো অবকাঠামোত সংস্কারকাজের সমন্বিত চাপেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
দিল্লির মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ভবনটির পাশে থাকা আরও একটি ৫০ বছরের ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনের বাসিন্দাদেরও দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধসেপড়া ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ হলেই পাশের ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। এমসিডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ছয়তলা ভবনটিতে একটি ছেলেদের হোস্টেল ছিল এবং এটি প্রায় ৩০ বছরের পুরনো। এটি পুনর্বাসন কলোনির একটি ৫৫ বর্গগজের প্লটে নির্মিত হয়েছিল, যেখানে মূলত একতলা ভবনের অনুমতি ছিল।
এদিকে দিল্লিতে ভবনধসে ছয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরোক্ষভাবে দায়ী করেছেন। গত রবিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশালদের’ বিষোদ্গার করলেন, অথচ অবকাঠামো না থাকা ও অবহেলার দরুণ দেশের ছাত্রদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, শিক্ষার্থীরা বেশি কিছু চান না। তারা চান নিরাপদ ক্লাসরুম, নিরাপদ হোস্টেল, ন্যূনতম সম্মান। এটা কি খুব বেশি চাওয়া? প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কি আর একবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ব্যাখ্যা করবেন, কেন এমন ঘটল? ’
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের ছাত্রদের সরকারি অবহেলা ও অবকাঠামো না থাকার খেসারত দিতে হবে? অভিজিৎ লিখেছেন, আদিবাসী এলাকাগুলোয় ন্যূনতম পরিষেবার অভাবে শিক্ষার্থীদের মরতে হচ্ছে। এবার খোদ দিল্লিতেও মরতে হলো ধসের কারণে। রাজধানীতেও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নন। দুর্ঘটনার সময় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছিলেন গোয়ায়। সেখানে তিনি তখন একটি দলীয় অফিস ভবনের উদ্বোধন করছিলেন। অভিজিৎ সেই প্রসঙ্গে বলেন, রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির বড় বড় পার্টি অফিস তৈরি হচ্ছে। অথচ পড়ুয়ারা অসুরক্ষিত ভবনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।