তিন বছর পর গাজার শিশুরা ক্লাসরুমে

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ এএম

চারপাশের ধ্বংসস্তূপ, চরম খাদ্য সংকট ও প্রতি মুহূর্তের অনিশ্চয়তা নিয়েই গাজাবাসী প্রতিটি দিন পার করে। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চললেও, ইসরায়েলি আগ্রাসনের অজানা ভয় গাজার বাসিন্দাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফিলিস্তিনের শিশুরা যেন এক টুকরো আশার আলো পেয়েছেন। ২০২৩ সালে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর তিন বছর পর শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে গাজার শিশুরা। চারপাশের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু করেছে গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম।

ভাঙাচোরা ভবন, তাঁবু ও টিনের অস্থায়ী ছাউনির নিচে গাদাগাদি করে বসেছে শিশুরা। কারও হাতে নতুন খাতা-কলম নেই, কারও গায়ে নেই স্কুলের ইউনিফর্ম। চারপাশে ধ্বংসযজ্ঞের বিভীষিকা নিয়েও দীর্ঘ সময় পর আবারও সরাসরি স্কুলে ফিরতে পেরে তাদের মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ। শিক্ষার্থীদের স্থান দিতে তাঁবু, তেরপল, স্টিল ও কাঠ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বহু অস্থায়ী পাঠশালা। কোনোটি বালুর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোনোটির শ্রেণিকক্ষে একটি ব্ল্যাকবোর্ড আর গুটিকয়েক গদি ছাড়া কিছুই নেই। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, যুদ্ধকালে গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ভবন ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, সংঘাতে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার শিশু এতদিন সরাসরি স্কুলে পাঠদান ও স্বাভাবিক শিক্ষাগ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল।

গাজার পূর্বাঞ্চলীয় খান ইউনিসের শিক্ষা পরিচালক ইব্রাহিম রমদান বলেন, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২২ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৫৩২ জন শিক্ষকসহ ৭৭০ জনেরও বেশি শিক্ষাকর্মী নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও আবার স্কুল খোলাকে আশার আলোর মধ্যে ভঙ্গুর এক শুভ সূচনা হিসেবে দেখছেন তারা। খান ইউনিসের শিক্ষার্থী মোয়ায়েদ আবু মুস্তফা বলে, তিন বছর আগে শেষবার স্কুলে গিয়েছিলাম। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়াটা তাই আমাদের জন্য আনন্দের। চরম দাবদাহের মধ্যে বাতাস চলাচলের সুবিধাহীন তাঁবুর মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে তাকে। পায়ে নেই ভালো জুতো, হাতে নেই খাতা-কলম, আর যুদ্ধে হারিয়েছে খেলার সাথীদের। তবুও তার অদম্য বার্তা,’ ‘এত কিছুর পরও আমরা শিখব; তাঁবুর নিচে বসেই শিখব।’ বাস্তুচ্যুত পরিবারের সঙ্গে তাঁবুতে বসবাসকারী ১৫ বছর বয়সী সমর আবু সালমিও ফিরেছে ক্লাসে। এক অস্থায়ী স্কুলের আঙিনায় দাঁড়িয়ে সে বলে, এখন এক তাঁবু থেকে আরেক তাঁবুতে গিয়ে হলেও নিজের স্বপ্নটা পূরণ করতে চাই।

গাজার শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, চলতি বছর ইউনিসেফের সহায়তায় অন্তত ৫ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী এই অস্থায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় নেবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত