স্বর্ণার কালার ক্রেজ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ এএম

কোটি কোটি টাকা ঘুরছে এখন বেবি বাম্প ইন্ডাস্ট্রিতে। কিন্তু কজন জানে এই খবর? আর যারা জানে, তারা কী করছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় একজন নারীর গল্প, যিনি প্রায় এক দশক আগে যখন বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার শুরু, তখনই বেবি বাম্প নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। নাম তার স্বর্ণা। আজ তিনি এই খাতের অন্যতম পরিচিত নাম।

২০১৬ সাল। মাস্টার্স শেষ করে ২০ হাজার টাকা লোন নিয়ে ১৭ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু। পেজ খুলতে জানতেন না, ফেসবুক মার্কেটিংয়ের কথা ভাবতেই পারতেন না। লস খেয়েছেন, হেসেছেন। তখন নারীদের ব্যবসা করাকে উপযুক্ত মনে করা হতো না। তিনি শুরু করেছিলেন সাভারের ক্যাম্পাস জীবন থেকে, ঢাকার বাইরে থাকা অবস্থায়। পরিবারে ব্যবসায়ী কেউ ছিলেন না; বাবা ব্যাংকার। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি এগিয়ে গেছেন।

একসময় ২৯ দিনের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে যান। হাজার হাজার গজ কাপড় কিনে ফ্যাক্টরিতে ড্রপ করে বাসায় ফেরেন। এত ছোট বাচ্চাকে নিয়ে এমন যাত্রা, এটা কি শুধু ডেডিকেশন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মাথায় যা ঢুকেছে, সেটাই করব। মেয়ে বাবার মতোই নাছোড়বান্দা।’ ২০২২ সালে গর্ভকালীন সময়ই ২৩০০ বর্গফুট অফিস ও ৩৫০০ বর্গফুট নতুন ফ্যাক্টরি নেন। বিপুল খরচ, গর্ভকালীন সময়, তবু থেমে যাননি। এ সময়েও তিনি ব্যবসার প্রতিটি দিক নিজে তদারকি করেছেন।

স্বামী শুরু থেকেই সক্রিয় সহায়ক। জুনিয়ররা কখনো তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে, বন্ধুরা বলেছে ‘পড়াশোনা করিস নাই, এখন কী করবি’। তিনি হেসে এড়িয়ে গেছেন। এখন মানুষ বলে ‘স্বর্ণার মতো হও’। ক্লায়েন্ট ও মায়ের নামে শাড়ি তৈরি করেন শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে। বাবা কখনো চাকরি নিয়ে কথা বলেননি; মা ও বোনই বুঝিয়েছেন। পরিবারের এই সমর্থন তাকে আরও শক্তি জুগিয়েছে।

আজ বড় টিম, শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তিনি বলেন, ‘এখনো যদি মনে করেন মেয়েদের ব্যবসা করতে দেবেন না, তাহলে বোকার স্বর্গে আছেন। ব্যবসায় ছেলেমেয়ে দুজনেই সমানভাবে এগোচ্ছে।’ একসময়ের অজানা তরুণী আজ বেবি বাম্পের পরিচিত নাম। ভালোবাসা আর জেদ দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন নারী উদ্যোক্তা মানেই শুধু স্বপ্ন নয়। ঈড়ষড়ৎ ঈৎধুব এখন শুধু একটি ব্র্যান্ড নয়, অনেক নারীর অনুপ্রেরণার উৎস।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত