ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নিজেদের শক্তি আরও বাড়াল অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম( টিভিকে)। রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্র মাদুরান্থকম এবং ধরাপুরমের উপনির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিল শাসকদল। এই জোড়া জয় একদিকে বিজয়ের সরকারকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাল, অন্যদিকে বড় ধাক্কা খেল এআইএডিএমকে। তবে দুই আসনে জিতলেও ২৩৪ আসনের বিধানসভায় এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার থেকে অনেকটাই দূরে টিভিকে।
বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এআইএডিএমকের দুই বিধায়ক মারাগাথাম কুমারাভেল এবং সত্যভামা পদত্যাগ করে টিভিকে-তে যোগ দেন। তাদের বিরুদ্ধে দলবদলের বিনিময়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে শাসকদল। পরে দুই নেত্রীকেই নিজেদের পুরনো কেন্দ্রে প্রার্থী করে দলটি। ফলে এই উপনির্বাচন কার্যত তাদের নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে জনসমর্থন যাচাইয়ের লড়াই হয়ে ওঠে।
ধরাপুরমে সত্যভামা পেয়েছেন ৬৬,৮৪১টি ভোট। ডিএমকে প্রার্থীকে ৯,৪৭১ ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। অন্যদিকে, মাদুরান্থকমে মারাগাথাম কুমারাভেল ৭৪,০৪৮টি ভোট পেয়ে ডিএমকের পরন্থমনকে ২০,০৪০ ভোটে হারিয়েছেন। দুই কেন্দ্রেই পাঁচমুখী লড়াই হয়েছে। ব্যবধান খুব বড় না হলেও এই জয় শাসকদলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই দুই জয়ের ফলে বিধানসভায় টিভিকে’র আসনসংখ্যা বেড়ে ১০৭ থেকে ১০৯ হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। আরও পাঁচটি আসন শূন্য রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ত্রিচি ইস্ট। পেরাম্বুর কেন্দ্র ধরে রাখতে ত্রিচি ইস্ট ছেড়েছেন বিজয়। ওই পাঁচ আসনেই জিতলেও টিভিকে’র আসনসংখ্যা হবে ১১৪, অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে আরও চারটি আসন প্রয়োজন হবে। ফলে কংগ্রেস এবং বাম দলগুলির সমর্থনের উপর নির্ভরতা পুরোপুরি কাটবে না।
অন্যদিকে কয়েক মাস আগে জেতা দুটি আসনই হাতছাড়া হওয়ায় অস্বস্তিতে এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাডি কে পালানিস্বামী বা ইপিএস। ইতিমধ্যেই দলটির ছয় বিধায়ক পদত্যাগ করে টিভিকে-তে যোগ দিয়েছেন। জয়ললিতার মৃত্যুর পর থেকে একের পর এক নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়া দলটির কাছে এই ফল নতুন করে নেতৃত্বের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিরোধী শিবির থেকে আরও বিধায়ক শাসকদলে যোগ দেন কি না, এখন সেটাই বড় উদ্বেগ।উপনির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পিএমকে। দলটির চার বিধায়ক রয়েছেন। ভবিষ্যতে তারা টিভিকের সম্ভাব্য সহযোগী হয়ে উঠতে পারে। তবে পিএমকে-র সঙ্গে জোট হলে দলিত স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী ভিসিকে-র সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হতে পারে। অন্যদিকে, ডিএমকে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নিজেদের মূল ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার বার্তা দিয়েছে। দলনেতা এম কে স্ট্যালিন এই জয়কে অন্তর্বর্তী সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে, দুই আসনের জয় বিজয়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে মজবুত করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনও অধরা।
বড় বড় সিদ্ধান্তে চমকে দিচ্ছেন থালাপতি বিজয়
বিধানসভায় ক্ষমা চাইলেন থালাপতি বিজয়
অগ্নিপরীক্ষায় পাশ করলেন থালাপতি বিজয়
মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কাকে বিয়ে করছেন থালাপতি বিজয়?