শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ ৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় মোট ৮৬টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুরের ধুকুরঝাড়ি সার্বজনীন দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান রংপুর রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান, সহকারী পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুধীর চন্দ্র, সাধারণ সম্পাদক পঞ্চম রায়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন, রংপুরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোট ৮৯৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১৩৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এসব পূজামণ্ডপের মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ৭৩১টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১৬৪টি।
অন্যদিকে, দিনাজপুর সেক্টরের আওতাধীন এলাকায় ২১০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন ৩১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১৬৯টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ৪১টি পূজামণ্ডপ।
এ ছাড়া দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৮৬টি পূজামণ্ডপে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর শহর এলাকায় ২২টি, দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় ৪১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
বিজিবি জানায়, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন বিজিবি সদস্যরা।
গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এ সময় ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করে তোলা সম্ভব।