লালপুরে ১ কোটি ৫১ লাখ টাকার ভবনে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

নাটোরের লালপুরে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের চতুর্থ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (আইসিটি ভবন) নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ২৯১ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির বিভিন্ন অংশে ব্যবহারের আগেই ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ই-স্মার্ট কনস্ট্রাকশন। তবে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এবং কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই বিভিন্ন অংশের বেহাল অবস্থা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটি পুরোপুরি ব্যবহারের আগেই দরজার হাতল, ছিটকিনি ও বারান্দার লোহার গ্রিলে মরিচা ধরেছে। বাথরুম ও বেসিনে নিম্নমানের শাওয়ার ও পানির কল ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবহারের আগেই এসব সরঞ্জামের ফিটিং আলগা হয়ে গেছে এবং প্রলেপ উঠে গেছে।

এ ছাড়া বারান্দা ও জানালায় ব্যবহৃত থাই গ্লাসের ফিনিশিং দুর্বল দেখা গেছে। গ্লাসের রাবার বিডিং ও গ্লু সঠিকভাবে লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। জানালার সংযোগস্থলে ফাটল ও ভাঙা অংশও দেখা গেছে। ভবনের কিছু জায়গায় টাইলস ভাঙা ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দরজার কাঠের কাজ এবং কব্জা লাগানোর ফিনিশিং নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ই-স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাসুদ রানা বলেন, কাজ শেষ করে চূড়ান্ত বিল না পেলেও সংশ্লিষ্টদের কাছে ভবন হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপরও কোনো সমস্যা থাকলে বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়ে থাকলে সেগুলো পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা এলজিইডি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নকশাকার ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, সিডিউল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যয়ন নিয়ে ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হয়েছে।

তবে লালপুর উপজেলা প্রকৌশলী ও এলজিইডির প্রকল্প মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব মো. আওলাদ হোসেন বলেন, চূড়ান্তভাবে ভবনটির কাজ বুঝে নেওয়া হয়নি। ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজও বাকি রয়েছে। কাজ বুঝে নেওয়ার পর ঠিকাদারকে বাকি বিল দেওয়া হবে।

প্রকল্প মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরকারি বরাদ্দের অপব্যবহার করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। তাঁরা নির্মাণকাজের স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত