ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ২১ বছর আগে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছেলে শরীয়ত উল্লাহকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্স খারিজ এবং আসামির আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুল হক খান ফরিদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শেখ মো. শামছুজ্জামান পাপ্পু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোস্তফা সারোয়ার ও আল আমিন সিদ্দিকী।
আইনজীবী শেখ মো. শামছুজ্জামান পাপ্পু দেশ রূপান্তরকে বলেন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল না। এ ছাড়া স্বীকারোক্তির সঙ্গে পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের গরমিলের বিষয়টিও হাইকোর্টের রায়ে উঠে এসেছে। এসব কারণে আসামি খালাস পেয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করাতে রাজি না হওয়ায় ২০০৫ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে গফরগাঁওয়ের ডুবাইল গ্রামে নিজ বাড়িতে বাবা ইব্রাহিম খলিল উল্লাহকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন ছেলে শরীয়ত উল্লাহ। এ সময় বাধা দিতে গেলে মা নাসিমা খাতুনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে গুরুতর আহত বাবা ও মাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ মার্চ মারা যান ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ।
এ ঘটনায় ১৫ মার্চ নিহতের আরেক ছেলে সাদিকুল্লাহ গফরগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শরীয়ত উল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দেন ময়মনসিংহের বিচারিক আদালত।
পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তার আপিল মঞ্জুর করে খালাসের রায় দেন।