সাইবার হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ এএম

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি। গ্রাহকের আর্থিক তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং ও তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামোয় হামলা এখন ব্যাংকগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে সাইবার হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটির রয়েছে ২৪ ঘণ্টা চালু সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি) এবং সাইবার ফিউশন সেন্টার (সিএফসি)। পাশাপাশি নৈতিক হ্যাকারদের ॥মাধ্যমে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

সম্প্রতি একটি সাইবার হুমকির মুখোমুখি হলেও তা সফলভাবে মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান। দেশ রূপান্তরের বিশেষ আয়োজনে ডিজিটাল ব্যাংকিং ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদ- ও বিধিবিধান অনুসরণ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্র্যাক ব্যাংকে কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান : আমরা সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি) পরিচালনা করি, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলা করা হয়। এ ছাড়া আমাদের নৈতিক হ্যাকার বা এথিক্যাল হ্যাকার রয়েছেন, যারা নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা করেন এবং সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি শনাক্ত করার চেষ্টা করেন।

সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এসওসি ও নৈতিক হ্যাকারদের ভূমিকা কী?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান : এসওসির মাধ্যমে সম্ভাব্য সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ করা হয়। অন্যদিকে নৈতিক হ্যাকাররা নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা করে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্তের চেষ্টা করেন। এর মাধ্যমে ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়।

সম্প্রতি আপনাদের ব্যাংক কোনো সাইবার হুমকির মুখে পড়েছিল কি? পড়লে তা কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান : সম্প্রতি ছুটির সময়ও আমরা একটি সাইবার হুমকির মুখোমুখি হয়েছিলাম। তবে সফলভাবে সেটি মোকাবিলা করতে পেরেছি। আন্তর্জাতিক মানদ- ও বিধিবিধান মেনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান : আন্তর্জাতিক মানদন্ড ও বিধিবিধান অনুসরণ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকি শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান : নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আমাদের আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।

গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত করতে আপনাদের ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগ কী?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নিরাপত্তা ও গ্রাহকের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা পরিচালনার মাধ্যমে আমরা ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলার চেষ্টা করছি। আন্তর্জাতিক মানদন্ড ও বিধিবিধান অনুসরণ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারে প্রধান বাধাগুলো কী কী?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য হুমকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও পরিবর্তিত হচ্ছে। এ কারণে নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করা জরুরি। তবে ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণে গ্রাহকদের সচেতনতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে ব্যাংকের নির্দিষ্ট মূল্যায়ন যুক্ত করা প্রয়োজন।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে ব্যাংকটি কী পরিমাণ বিনিয়োগ করছে?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান : সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার পরিচালনা করছি। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলা করা হয়। এ ছাড়া নৈতিক হ্যাকারদের মাধ্যমে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য কী? গ্রাহকদের জন্য নতুন কী কী সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে?

তারেক রেফাত উল্লাহ খান : নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আমাদের নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নেও কাজ করছি। সম্ভাব্য সাইবার হুমকি মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে নতুন ডিজিটাল সেবা, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং গ্রাহকসেবা সম্প্রসারণের নির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে ব্যাংকের ঘোষিত পরিকল্পনা যুক্ত করতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত