১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ আজ

সাত দাবি আদায়ে মাঠে থাকবে ১৯ জেলার নেতাকর্মী

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ এএম

সাত দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় যাচ্ছে। প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ কর্মসূচিতে ১৯ জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। শুরুতে ছয় শতাধিক গাড়ি নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পথে বিভিন্ন জেলা থেকে যুক্ত হয়ে বহরের সংখ্যা দেড় হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে তৃতীয় দফায় এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। আগের দুটি কর্মসূচির তুলনায় এবারের লংমার্চ সবচেয়ে দীর্ঘ। শরিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও অন্যটির ফল অস্বীকার করা হচ্ছে। এটি দ্বিচারিতা ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। সরকার আন্তরিক হলে আগামী ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

জ¦ালানি ও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকটের কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং নতুন করে গ্যাসসহ বিভিন্ন জ¦ালানির দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

১১ দলের ঐক্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নাই, আমাদের ঐক্য অটুট আছে। দাবি আদায় এবং জোট গঠনের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এ ঐক্য বজায় থাকবে বলেও তিনি জানান।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। এরপর সকাল ৮টায় গাড়িবহর যাত্রা শুরু করবে। সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায়, বেলা ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালী মোড়ে, দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনার বাবরী চত্বরে এবং ২টায় ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা হবে। বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড় ও ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা শেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভা হবে।

কর্মসূচি ঘিরে ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান গোলাম পরওয়ার। প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। জনদুর্ভোগ কমাতে মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করা হবে। এজন্য তিনি সাধারণ মানুষ, পরিবহনশ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে আগাম দুঃখপ্রকাশ করেন।

নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য, সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য, সেøাগান কিংবা প্রতিপক্ষকে আঘাত করে এমন আচরণ করা যাবে না। নিরাপত্তা, চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় পৃথক দল সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত