আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদের ধানম-ির বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের তিনজন ও যুবলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আগে এ ঘটনা ঘটে। তখন বিচারক নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা শাখার সভাপতি মো. শামিনুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুন্নাহার লিপি, মো. নাজমুল হাসান ও মো. বিল্লাল হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জুমার নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে ধানম-িতে দুর্বৃত্তরা একাধিক ককটেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়েছে।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের মাঠসংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১০-১৫ জন কর্মী সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেলে এসে ব্যানার প্রদর্শন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে। বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজ পেয়ে ধানম-ি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকেও লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করলে তিনি কৌশলে নিজেকে রক্ষা করেন এবং নাজমুল ও বিল্লালকে গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তী সময়ে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে বিক্রমপুর মিস্টান্ন ভা-ারের সামনে থেকে শামিনুর এবং কামরুন্নাহার লিপিকে গ্রেপ্তার করে কলাবাগান থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নাজমুল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের কর্মী।
অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি তাজা ককটেল উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১০টি ককটেলসহ সর্বমোট ১৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ১৩টি ককটেলই ইতিমধ্যে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল টিম দ্বারা নিরাপদ উপায়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
৪ তাজা ককটেল : এদিকে পুরনো রমনা থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলো জাহিদুল ইসলাম মনির (২০) ও এক কিশোর। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টায় হাতিরঝিল থানার নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে মধুবাগ মাঠে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করে বোম ডিসপোজাল টিম। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।