মানুষ সাধারণত অন্যের প্রতারণাকে ভয় পায়। আবার কখনো কখনো মানুষ নিজেই নিজেকে ধোঁকা দেয়। নিজের ভুলকে ভুল বলে স্বীকার করতে চায় না। নিজের দুর্বলতাকে আড়াল করে। নিজের কাছে এমন যুক্তি তুলে ধরে, যাতে নিজের কাজটিকেই সঠিক মনে হয়। এই প্রবণতাকেই বলা হয় আত্মপ্রবঞ্চনা।
আত্মপ্রবঞ্চনা মানে নিজেকে নিজে ধোঁকা দেওয়া। কোনো বিষয় সম্পর্কে সত্য জানা বা বোঝার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজের মনকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া কিংবা বাস্তবতাকে অস্বীকার করাই আত্মপ্রবঞ্চনা। এতে মানুষ অন্যকে নয়, প্রথমে নিজেকেই ভুল বোঝায়। একসময় নিজের বানানো যুক্তিকেই সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে।
একজন শিক্ষার্থী সারা বছর পড়াশোনা করেনি। পরীক্ষায় খারাপ ফল করার পর সে নিজের ভুল স্বীকার না করে বলে, প্রশ্ন কঠিন হয়েছিল, শিক্ষক ভালো করে পড়াননি কিংবা পরীক্ষার সময় তার শরীর খারাপ ছিল। এসব কারণের কোনোটি সত্য হতে পারে। কিন্তু নিজের অবহেলাই যে খারাপ ফলের প্রধান কারণ, তা স্বীকার না করলে সে আত্মপ্রবঞ্চনা করছে। ফলে তার ভুল সংশোধনের সুযোগও কমে যাচ্ছে।
আবার একজন ব্যবসায়ী জানেন, তিনি ক্রেতাকে পণ্যের ত্রুটি সম্পর্কে সত্য বলছেন না। তবু তিনি নিজেকে বোঝান, সবাই তো এমন করে, ব্যবসায় একটু চালাকি করতেই হয়। এভাবে অন্যায়কে যুক্তি দিয়ে বৈধ মনে করার চেষ্টা আত্মপ্রবঞ্চনার আরেকটি উদাহরণ।
মানুষ যখন নিজের ভুল, পাপ ও দুর্বলতা স্বীকার করতে চায় না, তখন সে নিজের সংশোধনের পথও সংকুচিত করে ফেলে। নিজের কাজকে সঠিক প্রমাণ করতে মিথ্যা যুক্তি দাঁড় করানো, পাপ করেও নিজেকে নির্দোষ ভাবা কিংবা তওবা করার প্রয়োজন অনুভব না করাও আত্মপ্রবঞ্চনার উদাহরণ। ইসলাম মানুষকে নিজের কাজের হিসাব নিতে, সত্যকে মেনে নিতে এবং ভুল হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে শিক্ষা দেয়।
কেউ নিয়মিত মানুষের হক নষ্ট করেন। কিন্তু তিনি নিজেকে বোঝান, তিনি নামাজ পড়েন, দান করেন, তাই তার অন্যায়গুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি আত্মপ্রবঞ্চনার উদাহরণ। নামাজ ও দান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানুষের অধিকার রক্ষা করাও জরুরি। একটি ভালো কাজ অন্যায়কে বৈধ করে দেয় না।
আত্মপ্রবঞ্চনা হলো নিজেকে কলুষিত করার নামান্তর। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে।’ (সুরা শামস ৯-১০)
লেখক : ইসলামি গবেষক