৪ দিন কম থাকবে গ্যাসের চাপ

সামিটের এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ এএম

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সামিটের ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল। ৮০ ঘণ্টার এই বিরতিতে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে। যদিও পেট্রোবাংলা বলছে সরবরাহ কম থাকতে পারে ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট।

গতকাল রবিবার পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিটের এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক সরবরাহ ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাবে।

সামিটের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মহসীনা হোসাইন গতকাল দেশ রূপান্তরকে জানান, পেট্রোবাংলা ৮০ ঘণ্টার জন্য টার্মিনাল বন্ধ রাখার অনুমতি দিয়েছে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। প্রতিটির দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এতে গ্যাসের বিদ্যমান সংকট আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি খাতে সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকরাও গ্যাসের স্বল্পচাপে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সমুদ্রে দীর্ঘদিন পরিচালনার কারণে এলএনজি টার্মিনালের জাহাজের কাঠামো, তলদেশ, গ্যাসীকরণ ব্যবস্থা, পাম্প, কম্প্রেসরসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ক্ষয় বা ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা, গ্যাস লিকেজ শনাক্তকরণ, জরুরি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং তাপ বিনিময়কারী যন্ত্র পরীক্ষা ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এসব কাজ নিরাপদ পরিচালনা ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য জরুরি।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরেও একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে সামিটের টার্মিনাল পুনরায় চালু হলে রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম শুরু হবে।

সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত